সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে গলা কেটে হত্যা মামলায় এক আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামির নাম বাবু শেখ (৪৫)। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ চট্টগ্রামের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এই রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আদালত আসামি বাবু শেখকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। বিচার শুরুর ১২ কার্যদিবসের মধ্যে আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, নিহত আট বছরের শিশুটির বাবা পেশায় একজন টমটমচালক। সীতাকুণ্ডের স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশুটি। গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকায় ধর্ষণচেষ্টার পর শিশুটিকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকায়। তিনি সীতাকুণ্ডে শিশুটির পরিবারের পাশের ঘরে ভাড়া থাকতেন।

ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, শিশুটির বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে বাবু শেখ শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ফুসলিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান। ১ মার্চ সকালে বাবু শেখ শিশুটিকে বাড়ি থেকে বের করে আনেন। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে গিয়ে সেখান থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান। সেদিন দুপুরে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা পাহাড়ে গলা কাটা অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান। জঙ্গল থেকে হেঁটে শিশুটি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছেছিল। পরে তাঁরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় শিশুটির মায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। এরপর ২১ জুন থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত এই রায় দেন।