ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, মিশন শিরোপা ধরে রাখার! কিন্তু নক আউট পর্বের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি পড়েন সমর্থকদের সমালোচনার মুখে। কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ না দেওয়া, নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজিসহ স্কালোনির কাছে সমর্থকদের একাধিক প্রশ্ন উঠেছে পুরো আসরজুড়েই।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা বারবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে এসে জয় তুলে নেওয়ার গল্প লিখেছিল। কেপ ভার্দে দিয়ে শুরু, মিশর, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে সেই লড়াইয়ের মানসিকতাই যেন দেখা যায়নি। গোল পেলেই ডিফেন্স মুডে যাওয়া, লিড নেওয়ার পর প্রতিপক্ষকে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ দেওয়া, সবকিছুতেই স্কালোনির সিদ্ধান্তে বিষ্মিত হয়েছেন সবাই। মিশরের বিপক্ষে শুরুতেই আক্রমণে না যাওয়াও ছিল সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

আরও পড়ুন

কেমন নৌকার মাঝি মেসির কোচ স্কালোনি?

শুধু তাই নয়, গেলো বিশ্বকাপের স্কোয়াডকেই পুরো ভরসা করে গেছেন স্কালোনি। যেখানে ২০২২ সালে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হারের পরের ম্যাচেই পুরো দলের খোলনোলচই বদলে ফেলেছিলেন তিনি। তখনকার তরুণ ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, হুলিয়ান আলভারেজরা সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেছিলেন। কিন্তু এবার কোনো সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি আর্জেন্টিনা কোচ।

ইতালিয়ান লিগে দারুণ মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপে আসা নিকো পাজকে পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ৭২ মিনিট খেলানো হয়েছে, যার ৬১ মিনিটই ছিল জর্ডানের বিপক্ষে গুরুত্বহীন ম্যাচে। একইভাবে বহুমুখী ডিফেন্ডার ভ্যালেন্টিন বার্কোও খুব কম সুযোগ পেয়েছেন।

যদিও একাধিক পজিশনে খেলার সক্ষমতা ছিল তার। এছাড়া অ্যাস্টন ভিলার হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া কিংবা অভিজ্ঞ জিওভানি লো সেলসোর মতো বিকল্পদের কাজে না লাগানোর সিদ্ধান্তও এখন আলোচনায়।

স্কালোনি, কিছু প্রশ্ন আর চ্যাম্পিয়ন মানসিকতা!

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ নিয়মরক্ষার হয়ে যাওয়ায় সুযোগ পেয়েই দারুণ খেলেছিলেন লো সেলসো। ফ্রি কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে ম্যাচসেরাও হন তিনি। এরপর নকআউট পর্বে তাকে কোনো ম্যাচেই সুযোগ দেননি স্কালোনি। একই দৃশ্য ছিল ফাইনালেও! সেমিফাইনালে জয় সূচক গোল পাওয়া লাউতারো মার্তিনেজ মাঠে নামার সুযোগই পেলেন না। শুরুর একাদশে ছিলেন না পারেদেসও! রদ্রিগো ডি পলও নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না।

২০২২ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের প্রাণভোমরা, কিন্তু এবার পুরো টুর্নামেন্টেই তাকে খুজে পাওয়া যায়নি! এরপরও কেবল এক ম্যাচেই তিনি শুরুর একাদশের বাইরে ছিলেন।

স্কালোনি, কিছু প্রশ্ন আর চ্যাম্পিয়ন মানসিকতা!

শুধু তাই নয় ফাইনাল দেখে মনে হয়েছে স্কালোনি যেভাবেই হোক ম্যাচটা টেনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন টাইব্রেকারে! এনজোর লাল কার্ডের যুক্তি তিনি দেখাতেই পারেন! তবে সেটা তো ঘটেছে ৯০ মিনিটেরও পরে। এর আগে আর্জেন্টিনা কেন স্পেনের গোলে একটা শটও নিতে পারলো না! বলের দখল রাখতে না পারলে দ্রুত ট্রানজিশন ফুটবলে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু ফাইনালে তারা কোনোটাই করতে পারেনি। পুরো ম্যাচে স্পেনের অর্ধে মাত্র ৩৭ বার বল স্পর্শ করেছে আর্জেন্টিনা। যা তাদের আক্রমণভাগ কতটা নিষ্ক্রিয় ছিল, সেটাই স্পষ্ট করে। মূলত বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে যে সাহসী মানসিকতা দেখানোর দরকার ছিল সেটা দেখাতে পারেননি স্কালোনি। অথচ ফ্রান্সের মতো দলকে গত বিশ্বকাপের প্রথমার্ধে রীতিমতো পাত্তাই দেয়নি আর্জেন্টিনা।

আরও পড়ুন

স্পেনই ভালো খেলেছে, অকপটে স্বীকার স্কালোনির

তাহলে কি আনহেল ডি মারিয়ার অনুপুস্থিতি পুরো আর্জেন্টিনাকে এলোমেলো করে দিয়েছে! ২০২২ ফাইনালেও ডি মারিয়া ওঠার পরই ৩ মিনিটে দুই গোল হজম করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, গত বিশ্বকাপ খেলার পরই ডি মারিয়া জানিয়ে দিয়েছিলেন পরের বিশ্বকাপ খেলবেন না। এরপরও তার বিকল্প কি তৈরি করেছেন স্কালোনি!

একটা বিশ্বকাপ জয়ের পর পরের বিশ্বকাপ আসার আগে দলটাকে ঢেলে সাজানোর কথা! সেখান স্কালোনি একই সেটআপে বিশ্বাস করে এগিয়ে গেছেন। আধুনিক ফুটবলে একই কৌশল দিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জেতাই কঠিন! সেখানে স্কালোনি ৪ বছর আগের কৌশল ধরে রেখেছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টেই তাই মরতে মরতে বেঁচেছে আর ফাইনালে মরেই গেছে।

আইএন/এসকেডি