নতুন অর্থবছরের বাজেটে কম্পিউটার ও ল্যাপটপে করছাড়ের সুবিধা অব্যাহত রাখা হলেও মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে শুল্কছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। একে সরকারের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নীতিনির্ধারণী সংগঠন টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিআইপিএপি)। একই সঙ্গে বাজেটে মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার কর প্রত্যাহার করা হলেও এর প্রকৃত সুবিধা গ্রাহকের পরিবর্তে মোবাইল অপারেটররাই পাবে বলে মত দিয়েছেন টেলিকম বিশেষজ্ঞরা। বুধবার রাজধানীর কাওরান বাজারে বিডিবিএল ভবনে টিআইপিএপি আয়োজিত ‘টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতে বাজেটের প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে এসব মন্তব্য করা হয়।
সেমিনারে টিআইপিএপির আহ্বায়ক ও বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, বর্তমানে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য স্মার্টফোনই প্রধান কম্পিউটিং ডিভাইস। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবার বিস্তারের ফলে এখন অফিসের কাজ, ডকুমেন্ট তৈরি থেকে শুরু করে নানা ধরনের উৎপাদনশীল কাজও স্মার্টফোনেই করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে স্মার্টফোনের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে। তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে একটি শিল্পকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে ১০ থেকে ১৫ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী বা ভবিষ্যৎ ক্রেতার ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো উচিত নয়। সরকার যখন ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তির সহজপ্রাপ্যতার কথা বলছে, তখন স্মার্টফোনের দাম বাড়ার মতো নীতি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফাহিম মাশরুর আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ মোবাইল কারখানায় মূলত বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করা হয়। স্থানীয় মূল্য সংযোজন ও কর্মসংস্থান তুলনামূলক কম। তাই দীর্ঘমেয়াদে শুধু সুরক্ষামূলক নীতির মাধ্যমে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার কার্যকারিতা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজেটে সিমের ওপর ৩০০ টাকার কর প্রত্যাহারের ফলে সরকার প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব ছাড় দিচ্ছে। কিন্তু এই সুবিধা গ্রাহকের কাছে পৌঁছাবে না, বরং পুরো সুবিধাই মোবাইল অপারেটরদের মুনাফা বাড়াবে। তিনি বলেন, সরকার যদি একই পরিমাণ রাজস্ব ছাড় ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক (এসডি) কমানোর মাধ্যমে দিত, তাহলে দেশের কোটি কোটি গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হতেন।




