কাগজে-কলমে ফেবারিটের তকমাটা স্পেনের গায়েই। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম না করা স্পেনের বিপক্ষে বেলজিয়ামকে অনেকেই দেখছেন ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে। তবে বেলজিয়ামকে নিয়ে যেকোনো অবমূল্যায়ন উড়িয়ে দিয়েছেন দলটির সবচেয়ে বড় ভরসা থিবো কোর্তোয়া। রিয়াল মাদ্রিদের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মনে করালেন, ফেবারিটদের বিদায় করে দেওয়ার ইতিহাস বেলজিয়ামের নতুন নয়।
সংবাদ সম্মেলনে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টেনে কোর্তোয়া বলেন, ‘২০১৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলও আমাদের বিপক্ষে ফেবারিট ছিল, ঠিক যেমনটা এবার স্পেন। আমরা এবারও আন্ডারডগ হিসেবেই মাঠে নামব। তবে আমাদের দলটা যে কতটা শক্তিশালী, তা আমরা সেনেগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের ঘুরে দাঁড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রমাণ করেছি।’
টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে মানসিক শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বেলজিয়ান প্রাচীর আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখি—বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এটাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। সবাই জানে সেমিফাইনালে যাওয়া সম্ভব। স্পেনকে আঘাত করার মতো মানসম্পন্ন ফুটবলার আমাদের আছে। প্রতিটি টুর্নামেন্টেই চমক থাকে, এবার আমরাই সেই চমকটা দেখাতে পারি।’
স্পেনের অপ্রতিরোধ্য ফর্ম মাথায় রাখার পাশাপাশি দলটির বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করতে হচ্ছে বেলজিয়ামকে। স্প্যানিশ আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় অস্ত্রকে নিয়ে কোর্তোয়া বলেন, ‘তারা ভালো খেলছে, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করছে শান্তভাবে। তারা এখনো কোনো গোল হজম করেনি। ইয়ামাল দারুণ প্রতিভাবান, ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে ও ভীষণ বিপজ্জনক। ওকে আমাদের কড়া নজরে রাখতে হবে, প্রয়োজনে দুজন মিলে ওকে আটকাতে হবে; কারণ, ওকে থামানো বেশ কঠিন।’
কোর্তোয়ার জন্য এই ম্যাচ অবশ্য কেবলই সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর ব্যক্তিগত আবেগও। ক্যারিয়ারের সোনালি সময় স্পেনে কাটানো এই গোলরক্ষকের কাছে এটি চেনা আঙিনায় এক অচেনা লড়াই। মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য এই আবেগ কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘আমি সেখানে প্রায় এগারো বছর ধরে আছি। স্পেনের খাবার, ওখানকার আবহাওয়া আমি ভীষণ পছন্দ করি। আমি অবশ্যই একজন বেলজিয়ান এবং স্পেন আমার দ্বিতীয় বাড়ি।’
গ্রুপপর্বের উত্থান-পতনের পর নকআউটে বেলজিয়ামের আক্রমণভাগ নিজেদের ফিরে পেয়েছে। সেনেগালের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ৩-২ ব্যবধানের মহাকাব্যিক জয় এবং শেষ ষোলোতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া—কোর্তোয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। বিশেষ করে রোমেলু লুকাকু ও চার্লস ডি কেটেলারের দারুণ ফর্ম কোচ রুডি গার্সিয়াকে স্বস্তি দিচ্ছে। আজ স্পেনের পাসিং সামনে বেলজিয়াম কোর্তোয়ার বিশ্বস্ত গ্লাভসের ওপর ভর করেই সেমিফাইনালের স্বপ্ন বুনছে।








