গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুত গতির কাভার্ড ভ্যানচাপায় রাকিব হাসান ও বিথী আক্তার নামে এক দম্পতি মারা গেছেন। অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে তাঁদের এক বছর বয়সী শিশুকন্যা। গুরুতর আহত শিশুকন্যাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে স্ত্রী বিথী আক্তার ও হাসপাতালে নেওয়ার পর স্বামী রাকিবের মৃত্যু হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার গিলারচালা গ্রামে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

নিহত দম্পতি হলেন পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার উত্তর রানীপুর গ্রামের সেকান্দার আলী বেপারীর ছেলে রাকিব হাসান (৪২) ও তাঁর স্ত্রী বিথী আক্তার (২৭)। এই দম্পতি স্থানীয় ডেনিম্যাক লিমিটেড নামে একটি কারখানায় মানবসম্পদ বিভাগে কর্মকর্ত ছিলেন।

নিহত রাকিবের খালাতো বোন মরিয়ম বেগম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তিনি। গাড়ি চাপা দেওয়ার সময় শিশুটি মায়ের কোলে ছিল। এ সময় শিশুকে ছুড়ে মারেন মা। এ জন্য অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। শিশুর অবস্থা বেশি ভালো না। শ্রীপুর থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ডেনিম্যাক লিমিটেড কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা শাহিনুর আলম বলেন, দুপুরের বিরতিতে রাকিব হাসান তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুত গতির একটি কাভার্ড ভ্যান তাঁদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই রাকিবের স্ত্রী মারা যান। গুরুতর অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁরও মৃত্যু হয়। রাকিব হাসান ডেনিম্যাক লিমিটেড কারখানার মানবসম্পদ বিভাগে কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর স্ত্রীও একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ডা. সায়নী মজুমদার বলেন, রাকিব বিথী দম্পতিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁদের শিশুকন্যাকে জীবিত অবস্থায় আনা হয়েছে। শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত শিশুকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘাতক চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।