গঠনের একদিন না পেরোতেই স্থগিত হলো ডাক বিভাগের ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সবিষয়ক বিশেষ কমিটি। ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে গঠিত ১১ সদস্যের এই কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থান পেয়েছিলেন কয়েকজন বেসরকারি উদ্যোক্তা। যাদের অনেকেরই নেই সরাসরি ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স অভিজ্ঞতা। অফিস আদেশে তাদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি বলা হলেও কোনো সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তার কোনো উল্লেখ নেই। ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের নির্বাচনের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডাক বিভাগের পরিচালক (আইপিএস) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে পরে দেখা যায়, এ খাতে কাজ করে এমন আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তা রয়েছে, যাদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। তাই সবাইকে সমান সুযোগ দিতে এবং আরও বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা করার লক্ষ্যে কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

২৩ জুন আন্তর্জাতিক ডাক সার্ভিস (আইপিএস) শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। আদেশে বলা হয়, ডাক অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স সেবা সম্প্রসারণের কার্যক্রম আরও বেগবান করার লক্ষ্যে ডাক অধিদপ্তর এবং ই-কমার্স খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই কমিটি কাজ করবে। তবে পরদিন ‘কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় অনিবার্য কারণবশত’ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থগিত হওয়া কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডাক সার্ভিস) জাকির হাসান নূর-কে। সদস্য-সচিব ছিলেন আইপিএস শাখার কর্মকর্তা শফিউল আরেফিন। সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কমিটিতে বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি ও উদ্যোক্তাকে যুক্ত করা হয়। সদস্যদের মধ্যে ছিলেন-খান হাসান মোহাম্মদ ইকবাল মাসুদ (অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিকল্পনা), ড. মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান (পরিচালক, মেইলস), মোহাম্মদ ওমর ফারুক (পরিচালক, আইপিএস) প্রকৌশলী এসএম আরিফুর রহমান (চেয়ারম্যান, ব্লু রিভার ট্রেডিং), এস এম মেহেদী চৌধুরী (ফাউন্ডার ও সিইও, লীলাবালি ডটকম) জাহাঙ্গীর আলম শোভন (চিফ কনসাল্টিং অফিসার, কনসাল প্লাস), ফাহিম ফয়সাল (স্বত্বাধিকারী, স্কাইব্রেলা), জাকারিয়া করিম (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ওয়েব কিংডম), নাঈম চৌধুরী (ভাইস চেয়ারম্যান, ইনডেচেস সফটওয়ার লিমিটেড)।

সদস্যদের তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি হিসাবে রয়েছেন। কিন্তু পরিচিতির জায়গায় তারা কোনো সংগঠনের পক্ষে কমিটিতে রয়েছেন তার উল্লেখ নেই। তালিকার ৬ থেকে ১১ নম্বরে উল্লেখিত সদস্যরা তথা ডাক অধিদপ্তরের বাইরের প্রতিনিধিদের ক্রস বর্ডার ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট প্রমাণিত অভিজ্ঞতা নেই। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হয়ে কমিটিতে তারা রয়েছেন, সেসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসা করলেও, সরাসরি ই-কমার্স ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। বাংলাদেশ ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ই-ক্যাব) সাবেক এক পরিচালক বলেন, সরকারি কোনো কমিটিতে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের রাখা অস্বাভাবিক নয়। তবে তারা যদি সরাসরি ওই খাতে ব্যবসায়িকভাবে সম্পৃক্ত হন, তাহলে স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।