নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাটাখালী ঘাট থেকে স্বর্ণদ্বীপ ঘাট এবং চর পল্লবী থেকে স্বর্ণদ্বীপ ঘাটের প্রস্তাবিত ইজারা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে কাটাখালী ঘাটে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শতাধিক কৃষক অংশ নেন। এ সময় তাঁরা দাবি করেন, ঘাট ইজারা কার্যকর হলে স্বর্ণদ্বীপে কৃষিকাজ, পশুপালন ও মৎস্য আহরণে জড়িত মানুষের যাতায়াতে অতিরিক্ত ব্যয় ও ভোগান্তি সৃষ্টি হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ২০১৭ সাল থেকে স্বর্ণদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা ফসল চাষ, গরু, মহিষ ও ভেড়া পালন করে আসছেন। একই সঙ্গে দ্বীপসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরেন স্থানীয় জেলেরা। দীর্ঘদিন ধরে কৃষক, রাখাল ও জেলেরা নিজস্ব ট্রলারে দিন-রাত যেকোনো সময় এসব ঘাট ব্যবহার করে আসছেন। এ জন্য তাঁদের কোনো ধরনের টোল বা ফি পরিশোধ করতে হয়নি।
তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জেলা পরিষদের মাধ্যমে কাটাখালী-স্বর্ণদ্বীপ ও চর পল্লবী-স্বর্ণদ্বীপ ঘাটের ইজারা আব্দুর রহমান খোকন নামে এক ব্যক্তির কাছে প্রদান করেছে। ইজারা কার্যকর হলে ঘাট ব্যবহারকারী কৃষক, জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত হারে টোল পরিশোধ করতে হবে, যা কৃষকদের স্বার্থের পরিপন্থী।
কৃষকদের ভাষ্য, স্বর্ণদ্বীপে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাত থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু ঘাট ইজারা কার্যকর হলে কৃষকদের যাতায়াত ব্যাহত হবে, কমে যেতে পারে চাষাবাদ ও উৎপাদন। এতে শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাঁরা দ্রুত প্রস্তাবিত ইজারা বাতিল করে কৃষকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে ইজারাদার আব্দুর রহমান খোকন বলেন, ‘আমি সরকারিভাবে ঘাটের ইজারা নিয়েছি। তবে এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। কার্যক্রম শুরুর আগে কৃষকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কৃষকদের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করা হবে না।’








