গীতিকবি শহীদুল্লাহ্ ফরায়জী বলেছেন, গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানবিক জাগরণেরও শক্তি। আমি চাই-আমরা যেন প্রতিদিন মানুষ হয়ে উঠি। এমন প্রত্যয়ে নিজের শিল্পচিন্তা ও জীবনদর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্পীর প্রকৃত অর্জন পুরস্কারে নয়। মানুষের ভালোবাসা ও মানবিক সমাজ নির্মাণে অবদানের মধ্যেই নিহিত। গীতিকবি সংঘের নিয়মিত ‘গীতিকবির সঙ্গে আড্ডা’য় তিনি এ কথা বলেন। শনিবার সন্ধ্যায় গীতিকবি সংঘের নিয়মিত ‘গীতিকবির সঙ্গে আড্ডা’ আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৫০৫ নম্বর কক্ষে শহীদুল্লাহ্ ফরায়জী এবং গীতিকবি তরুণ মুন্সী নিজেদের গীতিকার জীবনের পথচলা, আদর্শ ও সৃষ্টিচিন্তা নিয়ে কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গীতিকার ও সাংবাদিক নীহার আহমেদ ও সাকী আহমেদ।

আড্ডার প্রথম পর্বে শহীদুল্লাহ্ ফরায়জী আরও বলেন, তিনি জীবনের গন্তব্য হিসাবে শুধু গান নিয়েই ভাবেননি; বরং গানকে আত্মজাগরণ ও সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। গীতিকার হওয়ার স্বপ্ন, রেডিও ও টেলিভিশনে গান পাঠানোর দীর্ঘ অপেক্ষা, পরে বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন তিনি। নিজের জনপ্রিয় গান ‘চন্দ্র সূর্য যত বড়, আমার দুঃখ তার সমান’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গানটি শুনে ভারতীয় সংগীতশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী মন্তব্য করেছিলেন, ‘বাঙালির পক্ষেই এমন দুঃখের গান লেখা সম্ভব।’ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিচালক মানাম আহমেদ বলেন, শহীদুল্লাহ্ ফরায়জী লোকগানের উপাদান অত্যন্ত নান্দনিকভাবে গানে তুলে ধরেন। গীতিকার লিটন অধিকারী রিন্টু বলেন, প্রতিদানের প্রত্যাশা না করে নিঃস্বার্থভাবে তিনি (শহীদুল্লাহ) গান লিখে চলেছেন, যা এ সময়ের শিল্পচর্চায় বিরল। দ্বিতীয় পর্বে গীতিকার তরুণ মুন্সী তার গীতিকার জীবনের পথচলা, সৃষ্টিদর্শন ও সমকালীন গানের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে গীতিকবি সংঘের সাধারণ সম্পাদক জয় শাহরিয়ার বলেন, শিল্পের মূল্যায়ন নির্মোহভাবে হওয়া উচিত। শিল্পচর্চায় বয়স বা লিঙ্গ নয়, শিল্পমানই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য।