চুয়াডাঙ্গায় জামিন পাওয়ার পর শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে জেলা কারাগারের কারারক্ষী হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামুন অর রশিদ নামে ওই কারাগারের এক বন্দি কেন্দ্রীয় কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার তদন্তভার পড়েছে মেহেরপুর জেলা কারাগারের সুপার মো. আমান উল্লাহর ওপর। শনিবার দুপুরে তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে এসে তদন্ত শুরু করেছেন।
অভিযোগকারী মামুন অর রশিদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দরবেশপুর এলাকার আলী রেজা প্রধানের ছেলে। তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলায় বন্দি। মামুন অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ৩ মে তিনি জামিন পান। ওইদিন বিকালে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাকে কারারক্ষী হেলাল উদ্দিন জানান, আপনার ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে, এরপর মুক্তি দেওয়া হবে। পরে রাতে তাকে জেলারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তার মোবাইল ফোনে একটি ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ আবেদন দেখিয়ে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা হয়েছে। এরপর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মামুনের অভিযোগ, পরদিন কারাগারে হেলাল উদ্দিন তার সঙ্গে দেখা করে বলেন, জেলার স্যার, সুপার স্যার ও ডিসি অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ম্যানেজ না করলে আপনি বের হতে পারবেন না। এরপর প্রথমে ২ লাখ টাকা এবং পরে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ভয়ে তিনি তার ভাতিজা রাসেলের মোবাইল নম্বরে একটি মেসেজ লিখে দেন এবং যোগাযোগ করতে বলেন।
মামুন অর রশিদের দাবি, ৬ মে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের সামনে এক নারীর চায়ের দোকানের পাশের গলিতে ডেকে নিয়ে রাসেলের কাছ থেকে ৭৬ হাজার ৫০০ টাকা নেন অভিযুক্ত কারারক্ষী। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শুধু তার কাছ থেকেই নয়, অন্য বন্দিদের কাছ থেকেও একইভাবে অর্থ আদায় করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কারারক্ষী হেলাল উদ্দিনকে মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে লিখিতভাবে জেল সুপারের কাছে জবাব দিয়েছি। তবে অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটি করেননি তিনি। চুয়াডাঙ্গার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার ও চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত জেল সুপার মির্জা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। ঢাকায় অভিযোগ করার পর তদন্ত এসেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তদন্তে সহযোগিতা করেছি। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কর্মকর্তা আমান উল্লাহ বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। সার্বিক বিষয়টির তদন্ত চলছে।








