তামাকজনিত রোগ ও ক্যানসারের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় নীতির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন নীতি-নির্ধারক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (২৭ জুন) খুলনায় আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় বক্তারা বলেন, তামাক বর্জন সেবাকে মাঠ পর্যায়ে টেকসইভাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স’ বিভাগের আয়োজনে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে এই জাতীয় উদ্বোধনী কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

‘ইন্টিগ্রেশন অব টোব্যাকো সেশন সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ থ্রু টেকনিক্যাল সাপোর্ট, স্টেকহোল্ডার ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অ্যান্ড মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন’ প্রকল্পের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এটি আয়োজিত হয়।

কর্মশালায় তামাক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের গুরুত্ব নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মতামত উঠে আসে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি জানান, বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও তামাকজনিত রোগের কারণে প্রতি বছর বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। তিনি শিশু-কিশোরদের তামাকসক্তি রোধে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ফলে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি জাতীয় নীতির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারের যুগ্ম সচিব মো. মামুনুর রশিদ জানান, বিভিন্ন সূচক ও সক্ষমতা বিবেচনায় খুলনা বিভাগকে এই প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে সফল হলে তা পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগে সম্প্রসারণ করা হবে।

jagonews24

এনটিসিসি মহাপপরিচালক ও যুগ্ম সচিব মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রকল্পের মাধ্যমে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যের বিভাগীয় পরিচালক (খুলনা) ডা. এস.কে. মো. মোশাররফ হোসেন কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে বলেন, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমেই স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের লক্ষ্য ও কৌশলগত পরিকল্পনা তুলে ধরেন পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের প্রজেক্ট লিড অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল হক এবং প্রকল্প সমন্বয়কারী ডা. তাসলিমা চৌধুরী। দিনব্যাপী কর্মশালায় উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তৃণমূল পর্যায়ে তামাক বর্জন সেবা বাস্তবায়নের জন্য মাস্টার ট্রেইনার নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

ডা. ফারজানা ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

এসইউজে/এমআরএম