টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হবিগঞ্জে সবগুলো নদীতে পানি বেড়েই চলেছে। ইতোমধ্যে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর কুশিয়ারা নদীর পানি ৭৩ সেন্টিমিটার এবং সুতাং নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়াও অব্যাহতভাবে বাড়ছে কালনী, কুশিয়ারা, সুতাং, সোনাইসহ জেলার সবগুলো নদীর পানি। এতে নদীতীরবর্তী এবং হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড খরা কাটিয়ে গত ৩ দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬১.৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সবগুলো নদ নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বুধবার থেকেই বিপৎসীমা অতিক্রম করে খোয়াই, কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদীর পানি। নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, উজানে ও দেশের অভ্যন্তরে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে জেলার নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১টায় চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্তে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে বিকেল ৩টায় একই স্থানে ২১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময় জেলা সদরের মাছুলিয়া পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪০ সেন্টিমিটার উপরে ছিল। একই স্থানে সকাল ৯টায় ছিল ১১৫ সেন্টিমিটার।

এছাড়াও সুতাং নদীতে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীতে আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সবগুলো নদীতেই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।
তিনি আরও বলেন, খোয়াই নদীতে বাল্লা পয়েন্টে কিছুটা কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যদি উজানে বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে আশা করা যায় খোয়াই নদীতে পানি আর বাড়বেনা। শুধু বাল্লা পয়েন্টে যে ২২০ সেন্টিমিটার পানি সেটি জেলা শহরে আসতে অনেক সময় লাগে। এ পানিটা অতিক্রম করলে আর পানি বাড়বেনা। তবে জেলার অন্যান্য নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, যদি বন্যা হয় তবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এসজেডএইচ/জেআইএম








