টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও পাহাড় ধসের আশংকায় চট্টগ্রাম শহর ও উপজেলাগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে তিন হাজার পরিবার এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান। একইভাবে নগরীতে ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর চান্দগাঁও সার্কেলের আল-হেরা মাদরাসা, রশিদিয়া মাদরাসা (যোগাযোগ- নুরুল আহসান, ০১৭৮৩৯৪৭৩১৪), আগ্রাবাদ সার্কেলের ওয়াইডব্লিউসিএ কমিউনিটি স্কুল ও ইমরুল কোরআন মহিব্বিয়া দ্বীনিয়া এতিমখানা (যোগাযোগ- নিজাম উদ্দিন, ০১৯৭৯৮০৬০৫০), কাট্টলী সার্কেলের ফিরোজশাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয় (ঝিলের পাশে) ও লেকসিটি সংলগ্ন বি ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (যোগাযোগ- ইয়াছিন আরাফাত, ০১৬০৯৩৬০৬৪১) এবং বাকলিয়া সার্কেলের লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শহীদ নগর সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (যোগাযোগ- শাহাদাৎ হোসেন, ০১৮১৯৩২০৭০৬) এসব আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়।
আরও পড়ুন
তলিয়ে গেছে রেললাইন, চট্টগ্রামে আটকা কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকবরশাহ এলাকার ১নং ঝিল সংলগ্ন ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১ নম্বর ঝিল এলাকার ১১০ জন বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছেন। ওয়াইডব্লিউসিএ কমিউনিটি স্কুলে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৪০ জন আশ্রয় নিয়েছেন, রাতে এ সংখ্যা ১০০ জনে পৌঁছাতে পারে। ইলমুল কোরআন মাদরাসায় ৫০ জন এবং আল হেরা মাদরাসায় ১৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরিফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, গত দুই দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার অন্য উপজেলাগুলোর অনেকস্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড় ধস হয়েছে অনেক স্থানে। অনেক স্থান পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকার লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান
তিনি বলেন, যেসব আশ্রয়কেন্দ্র স্কুলে রয়েছে সেসব স্কুলের প্রধানশিক্ষক, নৈশপ্রহরীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেন প্রয়োজনীয় মুহূর্তে দুর্গত লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া যায়। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে জরুরিভিত্তিতে শুকনো খাবারসহ অন্য জরুরি সেবা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, ওরস্যালাইন বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মো. শরিফ উদ্দিন আরও বলেন, পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং করে লোকজনকে সতর্ক করা হচ্ছে। যেন তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ত্যাগ করে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেন।
এমডিআইএইচ/কেএসআর








