পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীসহ টানা ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িতরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও কটেজগুলোর বেশিরভাগ বুকিং হয়ে গেছে। ফলে, ব্যবসায় লাভের আশা করেছেন তারা। 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে। সৈকতের কলাতলী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, লাবণী পয়েন্টে পর্যটকের ভিড় দেখা দিলেও কবিতা চত্বর পয়েন্টে পর্যটক কিছুটা কম ছিল।

লাবণী পয়েন্টে কথা হয় লালমনিরহাট থেকে আসা জাহরা ও সায়ান দম্পতির সঙ্গে। তারা বলেন, “কক্সবাজারে আগেও বেশ‌ কয়েকবার এসেছি। এখানকার সমুদ্র ছাড়াও পাহাড়, মেরিন ড্রাইভ দেখতে ভালো লাগে। তাই, বারাবার আসতে মন চায়।”

নরসিংদী থেকে আসা পর্যটক সাঈফ উদ্দিন বলেন, “কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালুগুলো আমাকে বেশি আকর্ষণ করে। গোসল করেই বালুতে শুয়ে পড়ি আমি। এই অনূভুতির জন্য প্রতিবছর কক্সবাজার আসি।”

কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক শহীদুজ্জামান বলেন, “কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের নীল জলরাশিতে গোসল করা, জেটস্কিতে চড়া কিংবা বালিয়াড়িতে দৌড়ানোর আনন্দ বারবার উপভোগ করতে ইচ্ছে করে। পাশাপাশি এখানকার সি-ফুডও বেশ উপভোগ করি। সব মিলিয়ে বেড়ানোর জন্য কক্সবাজার একটি পারফেক্ট জায়গা। তবে, ব্যবসায়ীরা যদি পণ্যের বাড়তি দাম না নিতেন, তাহলে কক্সবাজার পর্যটকদের কাছে আরো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠত।”

পর্যটন ব্যবসায়ী খায়রুল আমিন বলেন, “টানা ছুটিতে কক্সবাজারে বেশি পর্যটক এসেছে। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেল ও কটেজের অনেক রুম বুকিং হয়ে গেছে। আমরা চাই, আরো বেশি পর্যটক কক্সবাজার বেড়াতে আসুক এবং আনন্দ-উচ্ছ্বাস শেষে নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে যাক।” 

হোটেল মালিকরা জানান, কক্সবাজারের ছোট-বড় ৫৫০ হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউসের বেশিরভাগ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। এসব হোটেলে অন্তত ৩ লাখ পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। 

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, “চলতি মাসে গণঅভ্যুত্থান দিবসের মতো ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটিতেও আমাদের হোটেলে বুকিং ভালোই বলা চলে। পর্যটনের বিকাশে আমরা আগত ভ্রমণপিয়াসীদের ভিন্নভাবে বিনোদিত করতে বছরজুড়েই থাকে নানা উৎসবের আয়োজন করি। জ্যেষ্ঠ মাসে দেশীয় ফ্রুটসের ফেস্টিভ্যাল করে পানির দরে পর্যটক ও স্থানীয় সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। এবারের টানা বন্ধে আমরা চার দিনের মেক্সিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করেছি। কেসাডিয়া, গুয়াকামোল, টর্টিয়া কিংবা সুস্বাদু নাচোস—মেক্সিকোর অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী এসব খাবারের চেনা স্বাদ এখন পাওয়া যাচ্ছে সমুদ্রশহরেই।”

তিনি আরো বলেন, “অনেকের ধারণা থাকে, তারকা মানের হোটেল মানেই অতিরিক্ত চড়া দামের খাবার। সেই ভুল ধারণা ভাঙতেই সর্বসাধারণের নাগালে মাত্র ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যেই ভোজনরসিকরা উপভোগ করতে পারছেন মেক্সিকোর বাহারি সব খাবার। পাশাপাশি শিশুদের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।”

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার বলেন, “৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, পর্যটন ব্যবসায়ে আমরা আলোর মুখ দেখব।”

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, “কক্সবাজারে বেশিরভাগ হোটেল কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবার বেশি ব্যবসা হবে বলে আশা করি।”

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কোনো পর্যটক যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে যথাযথ নজরদারি রয়েছে আমাদের। পর্যটক সেবায় সব সময় সজাগ রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।”