হত্যাচেষ্টা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়েও পঞ্চগড় সদর থানার নতুন ভবন নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি করছেন আব্দুল হান্নান শেখ নামে এক ব্যবসায়ী। উচ্চ আদালতের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করলেও তিনি প্রকাশ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের ঠিকাদার হিসাবে তদারকি করছেন। যদিও পুলিশের খাতায় তিনি একজন পলাতক আসামি। পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, হান্নান শেখ পঞ্চগড়ের একজন ঠিকাদার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ‘ফ্যাসিস্টের’ দোসর হিসাবে কাজ করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তিনি পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। জুলাই বিপ্লবের পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান। নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে পঞ্চগড়ে ফিরে ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর থানায় হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত হান্নান শেখ ৪ মে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পান। আদালত তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের অনুলিপি ৩ জুন পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৌঁছায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও হান্নান শেখ প্রকাশ্যেই চলাফেরা করছেন, চালাচ্ছেন কোটি কোটি টাকা কাজের ঠিকাদারি ব্যবসা। চলমান অনেক প্রকল্পের কাজের ঠিকাদারও তিনি। মামলার বাদী বলেন, আত্মসমর্পণ না করেও হান্নান শেখ প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সরকারি কাজের ঠিকাদারি করছেন। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা হতাশ। অভিযোগের বিষয়ে হান্নান শেখ বলেন, আমার এখনো জামিন হয়নি। আমি বিনা জামিনে আছি। জামিন হলে সেখানে স্বাক্ষর দিতে হয়। আমি বেল বন্ডে কোনো স্বাক্ষর করিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, আগাম জামিন স্থায়ী জামিন নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করা বাধ্যতামূলক। তা না করলে উচ্চ আদালতের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা আর কার্যকর থাকে না এবং মামলার পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি উচ্চ আদালতের আদেশের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে।








