২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপজয়ী স্পেন

আর ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা স্পেনের খেলার ধরন ও কৌশলে রয়েছে বিস্ময়কর পরিবর্তন। এক যুগের ‘তিকিতাকা’ থেকে এখন

দ্রুতগতির ফুটবলে লা রোহারা কীভাবে নিজেদের নতুন করে গড়ে তুলেছে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

ধৈর্যের ফুটবল থেকে দ্রুত আক্রমণ

২০১০ সালে স্পেনের ‘তিকিতাকা’ দর্শন বাজিমাত করেছিল। কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের অধীনে দলটি ছোট ছোট পাসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখত। অধিকাংশ ম্যাচেই ৬০ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় থাকত। তখন মাঝমাঠের নেতৃত্বে ছিলেন জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সের্হিও বুসকেটস ও জাবি আলোনসো। তাদের নিখুঁত পাসিং ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলত। স্পেন এখনো বলের দখলকে গুরুত্ব দেয়। তবে আক্রমণে অনেক বেশি গতিশীল তারা। রক্ষণ থেকে অল্প কয়েকটি পাসে আক্রমণে উঠে আসে। উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণ, ফাউল থার্ডে আগ্রাসী মুভমেন্ট এবং ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানোর প্রবণতা বর্তমান স্পেনকে আরও আধুনিক রূপ দিয়েছে।

তারকাদের ভূমিকা

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল ছিল কিংবদন্তি ফুটবলারদের নিয়ে গড়া। দলের একাত্মতাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। জাভি ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতেন, ইনিয়েস্তা তৈরি করতেন জাদুকরী মুহূর্ত, বুসকেটস নিঃশব্দে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দিতেন। আর ডেভিড ভিয়া গোল করার দায়িত্বে ছিলেন। তদের সমন্বিত পারফরম্যান্স স্পেনকে প্রায় অপ্রতিরোধ্য দলে পরিণত করেছিল। ২০২৬ সালের স্পেনেও প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব নেই। আলোচনার কেন্দ্রে ১৯ বছর বয়সি লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার বিশ্বের ভয়ংকর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। ড্রিবলিং, ওয়ান-টু-ওয়ানে প্রতিপক্ষকে হারানো, সুযোগ তৈরি এবং মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা স্পেনকে এমন একটি অস্ত্র দিয়েছে।

রক্ষণে ধারাবাহিক সাফল্য

স্পেন এখনো রক্ষণে সমান শক্তিশালী। বিশ্বকাপজয়ী স্পেন টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি গোল হজম করেছিল। নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো ১-০ ব্যবধানে জিতে শিরোপা নিশ্চিত করেছিল তারা। কার্লেস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, জোয়ান ক্যাপদেভিলা এবং গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস ছিলেন সেই দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগের স্তম্ভ। এই দলও রক্ষণে সংগঠিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং কার্যকর। আধুনিক কৌশল অনুসরণ করে সমন্বিত প্রেসিং, সঠিক পজিশনিং ও রক্ষণ থেকে দ্রুত বল বের করার দক্ষতা এই স্পেনের অন্যতম শক্তি।

নতুন প্রজন্মের স্পেন

দুদলের বয়সের পার্থক্যও ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। ২০১০ সালের স্পেনের অধিকাংশ ফুটবলার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে ছিলেন। বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদসহ ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোতে একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়াকে শক্তিশালী করেছিল। ফাইনালে ওঠা এই স্পেন অনেকটাই তরুণ। দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে রয়েছেন। ইয়ামাল সেই নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি। অভিজ্ঞদের নেতৃত্ব আর এই তরুণদের সেরা সময়ে আরও দীর্ঘদিন ধরে স্পেন রাজত্ব করবে, ধারণা করছেন অনেকে।