বাঁশখালীতে বন্যায় পানিবন্দি বাহারছাড়া গ্রামে তিন দিন পর মিললো ত্রানের খিচুড়ি। সাত বছরের শিশু কায়সার এই খিচুড়ি পেয়েই মহাখুশি। ক্ষুধার্ত ছোট বোনের মুখে তুলে দেয় সে এই খিচুড়ি। শনিবার দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামে চোখে পড়ে এমন দৃশ্য।

ভারী বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে ভেঙে গেছে কায়সারদের মাটির ঘর। তাই কোনোরকমে বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে তৈরি ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নিয়েছে তার পরিবার। মা কুলসুমা ও চার বছর বয়সী বোন রিয়া মনিকে নিয়ে পিতৃহীন কায়সারের পরিবার। বাবা মারা গেছেন এক বছর আগে। মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালান মা কুলসুমা। কায়সারও মাঝে মধ্যে ছোটখাটো কাজ করে অভাবের সংসারে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক বন্যায় তাদের সবকিছু ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। দুদিন পর্যন্ত শুকনো খাবার খেয়ে কোনো রকমে জীবন কাটে তাদের। শনিবার ছোট বোনটি এক মুঠো ভাতের জন্য কান্না করছিল। সে কোথায় পাবে ভাত? কায়সার একটি হাঁড়ি নিয়ে বের হয় এবং সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাস্তার ধারে বসে অপেক্ষায় থাকে খাবারের জন্য। হঠাৎ দেখা গেল একদল যুবক বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল রান্না করা খিচুড়ি। হাত বাড়াল কায়সার। পেয়েও গেল রান্না করা খিচুড়ি। পরে নিজের অনাহারের কথা ভুলে প্রিয় বোনের মুখে এই খাবার তুলে দেয় কায়সার।