তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও লালমনিরহাট সদর উপজেলায় নবনির্মিত তীর সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর এই ভাঙন শুরু হয়। এতে নতুন করে বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অন্তত ১,৫০০ পরিবার।ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া মানুষের দাবির মুখে ত্রাণ উপদেষ্টা আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে চলতি বছর এই এলাকায় তীর সংরক্ষণকাজ বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দীর্ঘদিন পর বাঁধ পেয়ে আশার আলো দেখেছিলেন নদীপাড়ের মানুষ। কিন্তু সেই স্বস্তি টিকল মাত্র কয়েক মাস।সরেজমিনে দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি হয়ে নরশিং পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার বাঁধের বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দিয়েছে। গত সোমবার রাত থেকে ভাঙন তীব্র হওয়ায় প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে কয়েকটি বসতবাড়ি ভেঙে গেছে এবং প্রায় ৫০০ বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা। এ ছাড়া হুমকির মুখে পড়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।তালপট্টি গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘কত আশা করি বাঁধ হইছিল। ভাবছিনু এবার আর ভাঙন হবার নয়। কিন্তু চোখের সামনে নতুন বাঁধ ভাইঙ্গা নদীত যাইতেছে। এখন আবার ঘরবাড়ি সরানোর চিন্তায় আছি।’ নরশিং এলাকার কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, সরকার অনেক টাকা খরচ করে বাঁধ দিল, কিন্তু তা কয়েক মাসও টিকল না।লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে ভাঙন শুরু হওয়ায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে তা ঠেকানোর চেষ্টা করছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’/