মোহনগঞ্জে ২ শিক্ষার্থী অপহরণচেষ্টা

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে দুই দিনের ব্যবধানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণচেষ্টার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে পৌরশহরের দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেরিন আক্তারকে (১১) অজ্ঞান করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহনগঞ্জ রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

বিদ্যালয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, টিফিনের সময় জেরিন বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে যায়। বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন যুবক রাস্তায় পড়ে থাকা একটি রুমাল তুলে দিতে বলে। রুমালটি তুলতে গেলে জেরিন অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর অপহরণকারীরা তাকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।

এদিকে স্কুল শেষে জেরিন বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন মোহনগঞ্জ রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগি থেকে তাকে উদ্ধার করেন।

উদ্ধারের পর জেরিনকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠান। জেরিন পৌরসভার দৌলতপুর এলাকার বাদাম বিক্রেতা মো. কামাল মিয়ার মেয়ে।

দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, `জেরিনের ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জেরিন বর্তমানে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এই চক্রটাকে গ্রেপ্তার করা হোক।'

এর আগের দিন রোববার বিকেল ৪টার দিকে পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকার মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সোমাইয়া আক্তারকে (৯) অপহরণের চেষ্টা করা হয়। সোমাইয়া টেংগাপাড়া এলাকার সেলিমের মেয়ে।

ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিদ্যালয় ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে থামে। সেখান থেকে নেমে এক যুবক সোমাইয়ার হাত ধরে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে মুখ চেপে ধরে। পরে চালক দ্রুত সিএনজি চালিয়ে নেত্রকোনার দিকে রওনা দেয়।

পথে উপজেলার বিরামপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে সোমাইয়া অপহরণকারীর হাতে কামড় দিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।

মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবা আসমা বলেন, `এই ঘটনার পর আমরা খুব আতঙ্কে রয়েছি। অভিভাবকরাও আতঙ্কিত। শিক্ষার্থীদের বলে দিয়েছি একা একা কেউ যেন বাউন্ডারির বাইরে না যায়। কোন প্রয়োজনে গেলে অভিভাবকের সঙ্গে অথবা কয়েকজন মিলে যেন যায়।'

পরপর দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণচেষ্টার ঘটনায় মোহনগঞ্জের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা দ্রুত অপহরণচক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, `শিক্ষার্থী জেরিনের অপহরণ চেষ্টার বিষয়টি অবগত হয়েছি। আগের দিনের ঘটনার বিষয়ে এখনো কেউ থানায় জানায়নি। জেরিন নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। শহরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অপহরণে যুক্তদের সনাক্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বারহাট্টা সার্কেল) সাব্বির হাসান বলেন, `শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কিনা জানা নেই। তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'