বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড। নাটকীয় এই পরাজয়ের পর দলের প্রধান কোচ থমাস টুখেলের কৌশলগত সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ও ফুটবল বিশ্লেষক জেমি ক্যারাঘার। তার মতে, ম্যাচের শেষ দিকে টুখেলের বদলিগুলোই ইংল্যান্ডের ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ চলাকালীন সামাজিক মাধ্যমে ক্যারাঘার লিখেছিলেন, ‘থমাস, আপনার পরিবর্তনগুলোই আমাদের এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে যে মনে হচ্ছে আমরা গোল হজম করব।’

তার অভিযোগ, গর্ডনের গোলের পর টুখেল পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণাত্মক কৌশলে চলে যান। এতে ইংল্যান্ড ক্রমেই নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে পড়ে এবং আর্জেন্টিনাকে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে দেয়। ক্যারাঘারের দাবি, এই সময় ইংল্যান্ডের বল দখলের হার নেমে আসে মাত্র ১২ শতাংশে, যা শেষ পর্যন্ত সমতাসূচক গোলের পথ তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, অ্যান্থনি গর্ডন ও রিস জেমসকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তও বড় ভুল ছিল। তাদের বদলির পর লিওনেল মেসিকে ঘিরে নেওয়া শর্ট কর্নারগুলো সামলানোর মতো খেলোয়াড় আর ছিল না। সেই পরিস্থিতি থেকেই তৈরি হয় এনজো ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের সুযোগ।

তবে কঠোর সমালোচনা করলেও টুখেলের সামগ্রিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি ক্যারাঘার। তার ভাষায়, ‘টুখেল এখনও বিশ্বমানের একজন কোচ।’ তিনি আরও বলেন, এই হার অনেকটা সাবেক ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে বড় টুর্নামেন্টে দেখা হৃদয়ভাঙা বিদায়গুলোর মতোই।

উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ম্যাচে সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে লিওনেল স্কালোনির দল।

আরআর