কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিক রাকিব (১৯) ও মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সহিদুল ইসলামের (৪০) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ রোববার শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়া বাজার এলাকার আনু মিয়ার ছেলে রাকিব দীর্ঘদিন ধরে একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে (১৭) প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ জুন বিকেলে রাকিব ওই শিক্ষার্থীকে স্থানীয় কাজির মসজিদসংলগ্ন নুরানি ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় আসতে বলেন। শিক্ষার্থী সেখানে গেলে মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষে তারা কথা বলে। একপর্যায়ে রাকিব মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সহিদুল ইসলামের সঙ্গে শিক্ষার্থীর পরিচয় করিয়ে দেন এবং সেখানে অবস্থান করেন।

মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, রাত গভীর হলে শিক্ষক সহিদুল ইসলাম রাকিবকে শ্রেণিকক্ষে ঘুমাতে বলে শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসার অফিসকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে দরজা বন্ধ করে শিক্ষার্থীকে চড়-থাপ্পড় মেরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে রাকিব এসে দরজা খুলতে বললে শিক্ষক সহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীকে সেখানে রেখে চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থী ধর্ষণচেষ্টার কথা রাকিবকে জানালে তিনি তাকে সান্ত্বনা দেন। এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাকিব রাতভর একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

পরদিন সকালে রাকিব ও শিক্ষক সহিদুল ইসলাম মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বাড়িতে ফিরে শিক্ষার্থী ঘটনাটি স্বজনদের জানান। পরে স্থানীয় কিছু মাতব্বর শিক্ষক সহিদুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিক্ষার্থীর পরিবারকে চাপ দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর নানা বাদী হয়ে গতকাল শনিবার রাতে উলিপুর থানায় রাকিব ও শিক্ষক সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষা করার জন্য আজ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।