ডিমের উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং সারা দেশের পোলট্রি খামারিদের একটি জাতীয় ডিজিটাল ডেটাবেইস তৈরির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)। সংগঠনটির দাবি, উৎপাদন পর্যায়ে খামারিরা ন্যায্য দাম না পেলেও ভোক্তাদের বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। ফলে খামারি ও ভোক্তা উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর আহমেদ চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন বিপিআইএর নেতারা। এর আগে একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএ সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের ডিম উৎপাদনকারী খামারিদের অনেকেই উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত লোকসান বাড়ছে, অনেক খামারি ঋণের বোঝায় জর্জরিত হচ্ছেন এবং কেউ কেউ খামার বন্ধ করতেও বাধ্য হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশের ডিম উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি যৌক্তিক বা ফেয়ার প্রাইস নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে খামারিরা অন্তত ন্যূনতম লাভ নিশ্চিত করে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারেন।

খামারিদের তথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতীয় পর্যায়ে একটি ডিজিটাল ডেটাবেইস চালু করা হলে প্রকৃত খামারিদের সঠিক তথ্য পাওয়া সহজ হবে। একইসঙ্গে উৎপাদনের পরিমাণ, বাজার পরিস্থিতি এবং খামারি ঝরে পড়ার প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও স্বল্পসুদে ঋণও প্রকৃত খামারিদের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া যাবে।

সংগঠনের মহাসচিব এম. সাফির রহমান বলেন, পোলট্রি খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এ কারণে খাতটির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তিনি সব অংশীজনকে নিয়ে একটি জাতীয় পোলট্রি বোর্ড গঠনের আহ্বান জানান। তার মতে, উৎপাদন ব্যয় কমানো গেলে আগামী এক দশকে পোলট্রি শিল্প দেশের অন্যতম সফল কৃষিভিত্তিক শিল্পে পরিণত হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএর উপদেষ্টা এন সি বণিক, সহসভাপতি মেজবাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক সফিকুর রহমানসহ  সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।