যৌক্তিক স্থানে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঢাকা-খাগড়াছড়ি ও খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তিনটি স্থানে সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত উপজেলার দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের হেয়াকো, বালুটিলা ও নারায়ণহাট বাজার এলাকায় একযোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ফটিকছড়ির বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভুজপুর এবং হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন নিয়ে ফটিকছড়ি উত্তর নামের নতুন উপজেলাটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এই প্রস্তাবনা। এর আগে গত ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলাটি গঠনের প্রাথমিক প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবিত ইউনিয়নগুলো ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ভুজপুর থানার আওতাধীন এলাকা। তবে নতুন উপজেলা সদর দপ্তর হিসেবে এখনো কোনো স্থানের নাম প্রস্তাব করা হয়নি।

আজ অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক শতাধিক যানবাহন দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে, ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের মানুষ প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। তাই জনগণের সুবিধা, সময় ও যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় যৌক্তিক স্থানে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।

তাঁরা বলেন, একটি উপজেলার মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সদর দপ্তর যদি অধিকাংশ মানুষের জন্য দূরবর্তী ও অযৌক্তিক স্থানে করা হয়, তাহলে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাই জনমত, ভৌগোলিক বাস্তবতা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার বিষয় বিবেচনায় যৌক্তিক স্থানে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

ফটিকছড়ির ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুনেছি অবরোধ হয়েছে, তবে কী কারণে, সেটি জানি না। খোঁজ নিচ্ছি।’