বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের মধ্যে সবচেয়ে গতিশীল ফুটবল খেলছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের নিয়ে প্রত্যাশা বেড়েছে সমর্থকদের। ২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। এদিকে নিজেদের ফুটবল ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করতে মরিয়া বেলজিয়াম। সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে শেষ ষোলোর এই লড়াই শুরু আগামীকাল সকাল ৬টায়।

গ্রুপ ‘ডি’ থেকে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে তারা। বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৩০ সালে। সেবার তারা তৃতীয় হয়। যুক্তরাষ্ট্র সবশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল ২০০২ সালে। এরপর ২০১০, ২০১৪ ও ২০২২ টানা তিন আসরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা এবং তরুণ-উদ্যমী দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে গ্রুপ ‘জি’ থেকে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বে ওঠে বেলজিয়াম। রাউন্ড অব ৩২-এ সেনেগালের বিপক্ষে নাটকীয় ম্যাচে শেষ পাঁচ মিনিটে দুই গোল করে ২-২ সমতা ফেরায় তারা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের ১২০ মিনিটে ইউরি টিলেমান্সের পেনালটি গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় রুডি গার্সিয়ার দল। বিশ্ব ফুটবলে বেলজিয়াম বরাবরই শক্তিশালী এক নাম। ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া দলটি ২০২২ সালে অবশ্য গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয়। এবার সেই হতাশা কাটিয়ে আবারও বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিতে চাইছে তারা। কেভিন ডি ব্রুইনা, জেরেমি ডোকু ও ইউরি টিলেমান্সের অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা বেলজিয়ামের সবচেয়ে বড় ভরসা। পরিসংখ্যানও বেলজিয়ামের পক্ষে। দুদলের আগের সাত দেখায় ছয়টিতেই জয় পেয়েছে ইউরোপের দলটি। যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র জয় এসেছিল ১৯৩০ বিশ্বকাপে। সবশেষ ২০২৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচেও বেলজিয়াম ৫-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। দলগত দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধাক্কা খেয়েছে ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞায়। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। চার ম্যাচে তিন গোল করা এই স্ট্রাইকারের অনুপস্থিতিতে একাদশে সুযোগ পেতে পারেন রিকার্দো পেপি।

বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার জেনো ডেবাস্ট এখনো চোট কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাকে নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। রোমেলু লুকাকু বিশ্বকাপে চার ম্যাচে দুটি গোল করলেও এই ম্যাচেও তার শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা কম।