যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কমিউনিজমের ব্যাপক সমালোচনা করে বলেছেন, ‘কমিউনিজম ক্যানসারের মতো’। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন ফিরে এসেছে।’
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে দেওয়া ভাষণে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। দেশের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ভাষণ দেন।
কমিউনিজমকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্য হুমকি’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘কমিউনিজম ব্যর্থ মতবাদ। সব সময় এটি ব্যর্থই থাকবে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত। এ ব্যবস্থা কখনোই সফল হয়নি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এ ধরনের হুমকি আমরা শুরুতেই থামাতে চাই। এটি ক্যানসারের মতো। তাই শুরুতেই দ্রুত এটি কেটে ফেলতে হবে।’
‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস প্রমাণ করে যে, এ দেশ কখনোই কাউকে নিজের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে দেবে না’, ভাষণে বলেন ট্রাম্প।
এরপর ট্রাম্প সংবিধানে উল্লেখ থাকা বেশ কিছু স্বাধীনতার কথা তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো নয়। এ দেশে আমাদের বাক্স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের চোখে সমান বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে।’
গত শুক্রবার সাউথ ডাকোটার ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোর স্মৃতিসৌধে দেওয়া ভাষণেও ‘কমিউনিজমের হুমকি’ প্রসঙ্গ টেনেছিলেন ট্রাম্প। স্পষ্ট করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘কমিউনিস্টদের হুমকির’ মুখে রয়েছে।
‘যা–ই ঘটুক’ ওয়াশিংটনে আজ ভাষণ দেব: ট্রাম্পএরপর ওয়াশিংটনে দেওয়া ভাষণে একই বিষয় নিয়ে তোপ দাগলেন ট্রাম্প। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর দুই ভাষণের কোনোটিতেই সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি গত মাসে নিউইয়র্কের প্রাথমিক ভোটে জয়ী হওয়া বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সমাজতন্ত্রীকে নিশানা বানিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের সামনে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন ফিরে এসেছে।’
স্বাধীনতা দিবসের বর্ষপূর্তিতে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের এ ভাষণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। বাদ সাধে চরম প্রতিকূল আবহাওয়া। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় অনুষ্ঠানস্থল থেকে হাজারো মানুষকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
উপস্থিত লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশে অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলাও দেখা দিয়েছিল। কেউ কেউ সেখান থেকে বের হওয়ার পথের দিকে ছুটে যান। অনেকে অনুষ্ঠানস্থল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। কেউ আবার ভেতরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘যা–ই ঘটুক’ ওয়াশিংটনে আজ ভাষণ দেব।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রচণ্ড গরমে রাস্তায় গলে যাচ্ছে জুতার তলা, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান ব্যাহত







