এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি)। গ্রেফতার হওয়া কর্মকর্তা হলেন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) সংকিরেড্ডি ভীম রেড্ডি, যিনি হায়দরাবাদের পুলিশ কম্পিউটার সার্ভিসেস (পিসিএস)-এ কর্মরত ছিলেন।

সোমবার সন্ধ্যায় হায়দরাবাদের ইব্রাহিমবাগ এলাকার ভেসেলা মেডোজে অবস্থিত তার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে এসিবির বিশেষ আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এসিবি জানিয়েছে, চাকরিকালীন সময়ে পরিচিত আয়ের উৎসের তুলনায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন ভীম রেড্ডি। দুর্নীতি ও অবৈধ উপায়ে এসব সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের মামলা করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ জুলাই তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকের বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালায় এসিবি। ডিএসপির বাসাসহ তার স্বজন, বন্ধু, কথিত বেনামি মালিক ও সহযোগীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ১৬টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়।

তদন্তে কর্মকর্তারা হায়দরাবাদ, সাঙ্গারেড্ডি, বিকারাবাদ, তেল্লাপুর, গাচিবাউলি, মানিকোন্ডা, পাতানচেরু, নাগোল এবং কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকায় বিলাসবহুল ভিলা, একাধিক ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক ভবনে অংশীদারত্ব, খোলা প্লট, কৃষিজমি ও বিভিন্ন বিনিয়োগের তথ্য পেয়েছেন। এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি রুপি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তল্লাশির সময় ডিএসপির বাসা থেকে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার এক কথিত বেনামির বাড়ি থেকে আরও প্রায় ৪০ লাখ রুপি নগদ জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে প্রায় ২ কেজি স্বর্ণালংকার, প্রায় ২০ কেজি রুপার সামগ্রী এবং প্রায় ১৯ লাখ ৯১ হাজার রুপির ব্যাংক আমানতের তথ্যও পাওয়া গেছে।

তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে একটি ব্যক্তিগত হাতে লেখা ডায়েরি উদ্ধারের পর। এসিবির দাবি, চারধাম তীর্থযাত্রায় যাওয়ার আগে ভীম রেড্ডি ওই ডায়েরিতে নিজের সম্পদ, বিনিয়োগ, দায়-দেনা এবং কথিত বেনামি ব্যক্তিদের নাম লিখে রেখেছিলেন। পরে তিনি ডায়েরিটির স্ক্যান কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার দুই ছেলের কাছে পাঠান।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এই ডায়েরি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে বেশ কয়েকটি সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র পাওয়া গেছে।

এসিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনও চলমান।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএসএম