ভারতের কেরালা রাজ্যের ওয়ানাড় জেলার ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় প্রায় ১০০ ফুট দূরে গিয়ে পড়েছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার। এ ঘটনায় ট্যাংকারে থাকা তিন ব্যক্তি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুহূর্তের মধ্যে রাস্তার একটি অংশ ধসে পড়ে এবং বিশাল পরিমাণ মাটি ও ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে ট্যাংকারসহ কয়েকটি যানবাহন ছিটকে যায়।
Major Landslide Strikes Wayanad After Heavy Rain; Fears Of People Trapped pic.twitter.com/jZVByv3jdf
— NDTV (@ndtv) July 7, 2026
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আনাক্কামপয়িল-কল্লাডি টানেল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাছে ভারী বৃষ্টির পর এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, চারজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে অভিযান চলছে।
ভূমিধসে টানেল প্রকল্পের একটি অংশ ছাড়াও একটি গির্জা ও পাশের একটি বাড়ি মাটিচাপা পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত ওই সময় গির্জায় কেউ ছিলেন না এবং বাড়িটির বাসিন্দারা হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের মক্কায় থাকায় সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সঙ্গে সংযোগকারী একটি সেতু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ায় উদ্ধারকারী দল ও ভারী যন্ত্রপাতি দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বিশাল মাটির স্তূপ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে উদ্ধারকর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে। এসব দৃশ্য ভূমিধসের ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এনেছে।
কেন ভূমিধসের ঝুঁকিতে ওয়ানাড়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় অবস্থিত ওয়ানাড় কেরালার সবচেয়ে ভূমিধসপ্রবণ জেলাগুলোর একটি। অতীতেও এখানে একাধিক প্রাণঘাতী ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।
২০২৪ সালের ৩০ জুলাইয়ের ভয়াবহ ভূমিধসে ২৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৮৬ হাজার বর্গমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ১৯৮৪ সালে মুন্ডাক্কাই এলাকায় ভূমিধসে ১৪ জন, ১৯৯২ সালে কাপ্পিক্কালামে ১১ জন এবং ২০০৭ সালে ভালামথোডে চারজনের মৃত্যু হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমঘাটজুড়ে কেরালার প্রায় ১৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ওয়ানাড় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও অবস্থিত।
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিধসপ্রবণ পাঁচটি দেশের একটি। দেশটির প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার, অর্থাৎ মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ এলাকা ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএসএম








