পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে মুসলিম নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনরা রয়েছে। মঙ্গলবার বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এর আগে সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে নগরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রার নেতৃত্বে পৌঁছয় বিজেপির প্রতিনিধি দল।
অগ্নিমিত্রা বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবার সরকারের ভূমিকায় সন্তুষ্ট এবং মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, মহিলাদের ওপর অত্যাচার বা পুলিশি গাফিলতির ক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
গত রবিবার বারুইপুর যাওয়ার কথা ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু তার কালীঘাটের বাড়ি পুলিশ বাহিনী দিয়ে ঘিরে তাকে ‘হাউস অ্যারেস্ট’ করা হয় বলে মমতা অভিযোগ তোলেন। সোমবার কালীঘাট তৃণমূলের তরফে দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, এলাকার বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর আজ মঙ্গলবার বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বও পৃথকভাবে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন ।
দুপুরে বারুইপুর পুলিশ সুপারের (এসপি) দপ্তরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বারুইপুরের ঘটনাকে কনো পর্যন্ত তদন্তে কী কী অগ্রগতি হয়েছে, কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ফরেনসিক রিপোর্টের বর্তমান অবস্থা, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ কতদূর এগিয়েছে এবং তদন্তের পরবর্তী রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর এসপি অফিসে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে এসে পৌঁছন হত্যাকাণ্ডের শিকার নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শোনেন তিনি এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন বলে। পাশাপাশি পরিবারের দাবি-দাওয়া এবং উদ্বেগের বিষয়গুলিও গুরুত্ব সহকারে শোনা হয়।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, এই সংবেদনশীল ঘটনায় কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্তে কোনো রকম আপস করা হবে না। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতেই সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বারুইপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিজিপিকে ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। তারপরেই কড়া ব্যবস্থা নেব। কাউকেই ছাড়া হবে না। দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। আউটপোস্ট চালু করব। এক সপ্তাহের মধ্যে আবার আসব। সরকার যা করছে, তা দেখতে পাবেন। যারা পুলিশের গাড়ি ভেঙেছে, রেললাইন উপড়েছে, তাদের ছাড় নয়। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার ব্যবস্থা করব। যারা ভোটে হেরেছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আমি ক্ষমতায় এসেই আরজি কর কাণ্ডের তিন আইপিএসকে সাসপেন্ড করেছি। বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের ১০, ১২ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সরকারের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট। এই ঘটনার পর যে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, তাদের ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনজন পুলিশ কর্মী আহত, হাসপাতালে ভর্তি। তাদের আমি দেখতে যাচ্ছি।”








