তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শুরু হয়েছে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন। এবারের সম্মেলন এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে সদস্য দেশগুলো উপর চাপ দিচ্ছেন। 

ন্যাটো জানিয়েছে, এই শীর্ষ সম্মেলনে তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর আলোকপাত করা হবে- প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করা।

ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পকে এটা দেখাতে চাইবেন যে, গত বছর হেগে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা তারা পূরণ করছেন।

জোট মঙ্গলবার আঙ্কারায় একটি প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামের আয়োজন করেছে। এই ফোরামে কয়েক হাজার কোটি ডলার মূল্যের চুক্তি ঘোষণা করেছে।

প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, ন্যাটো এ৪০০এম পরিবহন বিমানের একটি কৌশলগত আকাশপথে পরিবহন বহর চালু করবে এবং তাদের বিদ্যমান এ৩৩০ এমআরটিটি ট্যাংকার ও পরিবহন বহরে আরো একটি বিমান যুক্ত করে বহরটি সম্প্রসারিত করবে। এছাড়া, মিত্র দেশগুলো তাদের পুরোনো এডব্লিউএসিএস বহর প্রতিস্থাপনের জন্য সাব-এর গ্লোবালআই নজরদারি বিমানের ১০টি পর্যন্ত ক্রয় করবে। এর পাশাপাশি মিত্র দেশগুলো সর্বোচ্চ পাঁচটি নর্থরপ গ্রুম্যান এমকিউ-৪সি ট্রাইটন উচ্চ-উচ্চতায় নজরদারি ড্রোন ক্রয় করবে এবং এই ক্রয়ের জন্য নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, জার্মানি ও ডেনমার্ক একটি অভিপ্রায় পত্রে স্বাক্ষর করেছে।

এবারের সম্মেলনে নাটকীয়তার সৃষ্টি করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ন্যাটোর কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি জোটের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিকবার। অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি ইউরোপে মার্কিন সেনাসংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার বিষয়টি আলোচনা করেছিলেন। এছাড়া ট্রাম্প ন্যাটোর আরেক সদস্য দেশ গ্রিনল্যান্ড দখল করার হুমকিও দিয়েছেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি সময়ে সময়ে নমনীয়তা দেখিয়েছেন। সুতরাং, দেখার বিষয় ট্রাম্প এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে কতটকু সহযোগিতার ঘোষণা দেন কিংবা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেন কিনা।