কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি সিন্দুক ও তিনটি অস্থায়ী ট্রাংকের দানবাক্স খোলা হয়েছে। ছয় মাস পর শনিবার সকাল ৭টায় এ দানবাক্সগুলো খুলে ৪৩ বস্তায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিভিন্ন মনোবাসনার চিরকুট। এর মধ্যে একটি নাম-পরিচয়হীন চিঠিতে লেখা ছিল-হাদি হত্যার বিচার চাই। একটি চিঠিতে ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কামনা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে। এর আগে ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা এবং বিদেশি মুদ্রাসহ স্বর্ণ ও রৌপ্যালংকার। এবার এরও কয়েক গুণ বেশি দান মিলবে বলে ধারণা ব্যবস্থাপনা কমিটির।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের লোকজনের উপস্থিতিতে সকালে দানবাক্স খোলা হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ কোটি টাকা গুনে ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। বাকি টাকা গণনার কাজ শেষ হতে রাত সাড়ে ৭টা থেকে ৮টা বেজে যেতে পারে বলে তখন জানিয়েছেন রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেসী। তিনি বলেন, এবার আগেরবারের কয়েকগুণ বেশি টাকা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, টাকা গণনার কাজের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শতাধিক কর্মকর্তা-সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, এসব দানের টাকায় বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা-এতিমখানাসহ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অসহায় মানুষ এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার রীতি রয়েছে। তবে, একটি সর্বাধুনিক সুবিশাল পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্স প্রকল্প ইতোমধ্যেই হাতে নেওয়া হয়েছে। যেখানে একসঙ্গে ৩০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এরই মধ্যে এ তহবিল বাবদ ব্যাংকে ১১৪ কোটি টাকা জমাও রয়েছে। একই লক্ষ্যে অনলাইনে পাগলা মসজিদে দানের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনলাইনে ৫ লাখ টাকারও বেশি দানের টাকা এসেছে। জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ শহরের মাঝপথ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীসংলগ্ন হারুয়া এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের অধিক সময়ের পুরোনো এই পাগলা মসজিদ। শহরের হয়বতনগর জমিদার বাড়ির পূর্বপুরুষ আধ্যাত্মিক সাধক পাগল হিসাবে পরিচিত জিল কদর খান একসময় নরসুন্দা নদীর মাঝপথে জেগে ওঠা উঁচু টিলাতে তার আস্তানা গড়ে তোলেন। তার মৃত্যুর পর ওই আস্তানাটি মসজিদ হিসাবে গড়ে ওঠে। তারপর থেকেই ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের ঠাঁই হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে এ মসজিদটি। এক শ্রেণির মানুষের বিশ্বাস, যে কোনো মকসুদ পূরণের জন্য নিয়ত করে এই মসজিদের দানবাক্সে দান করলে মনের বাসনা পূর্ণ হয়।