ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা অন্যান্য ‘হাইব্রিড হামলা’ চালাতে পারে রাশিয়া-এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তের দুটি সদস্য দেশ। লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে রাশিয়া বাল্টিক অঞ্চল অথবা পোল্যান্ডকে কেন্দ্র করে সামরিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয়, বরং সীমিত পরিসরের ‘হাইব্রিড হামলা’ হতে পারে। ন্যাটোর আরেক সদস্য দেশের এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক সূত্রও একই ধরনের তথ্যের কথা জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, রাশিয়ার পক্ষে বর্তমানে দ্বিতীয় একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ফ্রন্ট খোলা সম্ভব নয়। তাই ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা কিংবা অন্যান্য সীমিত সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলোকে এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে যে, ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখলে তাদেরও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গদানস্কে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলন শেষে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এ কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। এদিকে পালটাপালটি হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া-ইউক্রেন। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার প্রভাবে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া এবং রাজধানী সেভাস্তোপোলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। শুক্রবার রুশ নিযুক্ত সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজবোঝিয়েভ বলেছেন, ক্রিমিয়ার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত জটিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেভাস্তোপলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই আরও একটি বড় যুদ্ধ বন্দিবিনিময় সম্পন্ন করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে শুক্রবার উভয় পক্ষই ১৬০ জন করে ৩২০ যুদ্ধবন্দিকে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে।

