যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে পাঁচ দফা আলোচনার পর অবশেষে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছে। তবে শুক্রবার স্বাক্ষরিত এ সমঝোতা চুক্তির বিরুদ্ধে বৈরুতের রাস্তায় নামেন হাজার হাজারো হিজবুল্লাহ সমর্থক। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন তারা। মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ সমর্থকরা মোটরসাইকেলে বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি শহরের কেন্দ্র ও বিমানবন্দর যাওয়ার সড়কেও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তারা নতুন ইসরাইল-লেবানন কাঠামো চুক্তির বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন। হিজবুল্লাহর সংসদ-সদস্য হাসান ফাদাল্লাহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে এ চুক্তি কার্যকর করার চেষ্টা করা হলে তা গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তার দাবি, হিজবুল্লাহকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ইসরাইল-লেবানন সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে আসছে তার দল। এদিকে চুক্তির পর এক লিখিত বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, জাতিসংঘের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০০ মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা দেবে। পাশাপাশি লেবাননের সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ৩০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ, সংগঠনটির সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ইসরাইলি বাহিনীর সীমান্তে ফিরে যাওয়ার একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ‘মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ ফর লেবানন’ নামে একটি পাইলট সমন্বয় কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এ সমঝোতা দেশটির সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। চুক্তি আলোচনায় হিজবুল্লাহ সরাসরি অংশ না নিলেও রুবিও জানান, সংগঠনটির সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল।