ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহের তীব্রতা আরও বেড়েছে। শনিবার মহাদেশটির প্রায় ১৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে। ইতোমধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছে এ তাপপ্রবাহ। দ্য জার্নাল।
শুধু জার্মানিতেই প্রায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ছিলেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ইউরোপের ৪০ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ অন্তত ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মুখোমুখি ছিলেন। যদিও তাপপ্রবাহের সর্বোচ্চ তীব্রতা ধীরে ধীরে পশ্চিম ইউরোপ থেকে পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। এ তাপপ্রবাহ ইতোমধ্যে একাধিক দেশের জাতীয় তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। জার্মানির সারব্রুকনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড উভয় দেশেই চলতি সপ্তাহে জুনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। চরম গরম মোকাবিলায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ এখনো জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফ্রান্সে স্বাস্থ্যসেবার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। রাজধানী প্যারিসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জরুরি সহায়তার জন্য ফোনকল ৮০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডে নদীর পানির তাপমাত্রা এতটাই বেড়ে গেছে যে নিরাপদভাবে শীতলীকরণ সম্ভব না হওয়ায় ইউরোপের সবচেয়ে পুরোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কয়েকটি রিঅ্যাক্টর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের মার্সেই শহরে শুক্রবার একটি উত্তপ্ত গাড়ির ভেতর থেকে এক শিশুকে উদ্ধার করা হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে চলমান তাপপ্রবাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারণে ৫৫টির বেশি মানুষ পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে জনসমাগমের বিভিন্ন আয়োজনেও। জরুরি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে প্যারিস ও লিঁও শহরের প্রাইড মিছিল স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও জার্মানিতে বেশ কয়েকটি উৎসব এবং উন্মুক্ত স্থানের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে বা সীমিত আকারে আয়োজন করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তাপপ্রবাহ ‘অসংখ্য তাপমাত্রার রেকর্ড চূর্ণ করে দিয়েছে’ এবং এটি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম তাপপ্রবাহ এখন আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে জানিয়েছে, ইউরোপে এখন যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা পরিবর্তিত জলবায়ুর বাস্তব চিত্রেরই প্রতিফলন।

