বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে এই জয়ের পর শুধু ফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেনি আলবিসেলেস্তেরা। সমালোচকদেরও কড়া জবাব দিয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিয়ে কটাক্ষ করা ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ও টিভি বিশ্লেষক গ্যারি নেভিলকে ছেড়ে কথা বলেননি সেন্টার-ব্যাক ক্রিশ্চিয়ান ‘কুটি’ রোমেরো। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ ঝেড়ে দিয়ে নেভিলকে উদ্দেশ্য করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।
সেমিফাইনালের আগে গ্যারি নেভিল আর্জেন্টিনার দুই সেন্টার-ব্যাক কুটি রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘ওরা বিশ্বের সেরা-সবচেয়ে খারাপ সেন্টার-ব্যাক জুটি। দু'জন মিলে প্রায় প্রতি ম্যাচেই একটি করে গোল উপহার দেয়।’
নেভিলের দাবি ছিল, ইংল্যান্ড যদি অন্তত দুটি গোল করতে পারে, তাহলে সহজেই ফাইনালে উঠবে। কিন্তু মাঠের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে ডি-স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুটি রোমেরো বলেন, ‘আমরা কিছুটা বিরক্ত ছিলাম। কারণ ইংল্যান্ডে ম্যাচের আগে অনেক কথা বলা হয়। তাই তাদের প্রতি আমাদের শুভেচ্ছা রইলো। আশা করি এখন তারা খুব খুশি।’
তার সতীর্থ লিসান্দ্রো মার্তিনেজও একই সুরে বলেন, ‘এ ধরনের সমালোচনায় আমরা অভ্যস্ত। তারা আমাদের নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে, আর আমরা মাঠে পারফরম্যান্স দিয়ে জবাব দিই।’
এরপরই গ্যারি নেভিলকে সরাসরি নিশানা করেন রোমেরো। সাবেক ফুটবলারদের বিশ্লেষকের ভূমিকায় বসে বর্তমান খেলোয়াড়দের সমালোচনা করার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু আশা করি, অবসরের পর যেন নেভিলের মতো এতটা অপদার্থ না হই। আমি যেন কোনো খেলোয়াড়কে এভাবে সমালোচনা না করি। আমরা সবাই মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। কখনও ভালো হয়, কখনও খারাপ। আমরা শুধু খুশি যে ফাইনালে উঠেছি এবং ইতিহাস গড়ছি।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর রোমেরোর উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। এনজো ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের পর তিনি ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের সামনে গিয়ে উদযাপন করেন। ম্যাচ শেষে আবার ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহ্যামের দিকেও তাকিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায় তাকে।
এই জয়ে সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এখন তাদের লক্ষ্য চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক/নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির দল।
আরআর/আইএন








