যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ফাইনাল খেলা দেখানোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পরিসরে নিয়মিত খেলা দেখানো হচ্ছিল। তবে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকালীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ফলশ্রুতিতে খেলা দেখানো স্থগিত করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় তুলে এবং পুনরায় বড় পরিসরে খেলা দেখানোর দাবি জানান তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসের সবাই মিলে একসাথে বিশ্বকাপ খেলা উদযাপন-উপভোগ করা অনেক আবেগের। চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ শিক্ষার্থীরা ক্যম্পাসজীবনে একবার মাত্র উপভোগ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অল্প কিছু শিক্ষার্থীর কারণে বাকি সব শিক্ষার্থীদের খেলা দেখানো থেকে বঞ্চিত করছে।
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী স্বর্ণালী বিশ্বাস বলেন, “আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার কেন্দ্রীয়ভাবে বিশ্বকাপ খেলা দেখার আয়োজন চালু হোক। আগে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু একটি ঘটনার কারণে পুরো আয়োজন বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত নয়। আমরা হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আর খুব বেশি দিন এভাবে একসঙ্গে খেলা দেখার সুযোগ পাব না।বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়, বরং সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সুন্দর স্মৃতি তৈরিরও একটি স্থান। জিমনেশিয়ামে একসঙ্গে খেলা দেখা আমাদের জন্য আনন্দ ও বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিক—এটা আমরাও চাই। তবে কয়েকজনের বিশৃঙ্খলার কারণে যেন পুরো শিক্ষার্থী সমাজ এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। প্রশাসনের কাছে আন্তরিক অনুরোধ, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয়ভাবে খেলা দেখার আয়োজনটি পুনরায় চালু করা হোক।”
এই বিষয়ে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসাইন বলেন, “একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিমনেশিয়ামে বড় পর্দায় খেলা দেখানো বন্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বিশ্বকাপে সকল বন্ধু এবং ক্যাম্পাসের সবাই একসাথে মিলে বড় পর্দায় খেলা দেখার যে আনন্দ, সেই আনন্দ প্রশাসন বন্ধ করতে পারে না। বিশ্বকাপ কোটি মানুষের আবেগ, উচ্ছ্বাস এবং একসাথে উদযাপনের উপলক্ষ্য। তাই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা জোরদার করে প্রত্যেকটি খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। আশা করছি, ফাইনাল খেলা অবশ্যই বড় পর্দায় দেখানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি এই আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মনে করব পুরো প্রশাসনিক কাঠামোই ব্যর্থ। আর তাদের এই ব্যর্থতা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সাথে জিমনেশিয়ামের বড় পর্দায় অথবা খোলা মাঠে ডিসপ্লের ব্যবস্থা করে আমাদের খেলা দেখার অধিকার ফিরে পেতে চাই।”
এই বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাইদুল হক নোমান বলেন, “একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে বিশ্বকাপ খেলা দেখার আয়োজন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা হতাশ। কয়েকজনের ভুলের জন্য পুরো শিক্ষার্থী সমাজ বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও তদারকি নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয়ভাবে খেলা দেখার আয়োজনটি পুনরায় চালু করা হোক। আমরা চাই, সবাই নিরাপদ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারি।”








