ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাবর্তনের জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শুধু জয় নয়, লিওনেল মেসির আবেগঘন বক্তব্যও। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এই ঐতিহাসিক জয় উৎসর্গ করেছেন কিংবদন্তি ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে। তার ভাষায়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় ‘স্বর্গে থাকা দিয়েগোর জন্য একটি উপহার।’

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ডিয়েগো ওপরে বসে এই জয় দারুণভাবে উপভোগ করছেন। আজকের দিনটি তার জন্য খুবই বিশেষ। আমরা তাকে এই আনন্দ দিতে পেরেছি, আর তিনি যেভাবেই হোক ওপরে থেকে এটি উপভোগ করুন। তাকে উপভোগ করতে দিন, কারণ এটাও তার জন্য একটি উপহার।’

সাক্ষাৎকার চলাকালে সাংবাদিক মাতিয়াস পেল্লিসিওনি মেসির হাতে তুলে দেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ, যা মুহূর্তটিকে আরও আবেগঘন করে তোলে।

১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন। সেই ম্যাচেই আসে বিতর্কিত ‘হাতের গোল’এবং কিছুক্ষণ পর ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল, যেখানে একাই একাধিক ইংলিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জাল কাঁপিয়েছিলেন তিনি।

ফকল্যান্ড যুদ্ধের মাত্র চার বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই জয় আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে শুধু ক্রীড়া সাফল্য ছিল না, ছিল গভীর আবেগ ও জাতীয় গর্বের প্রতীক।

বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের সঙ্গে ফকল্যান্ড যুদ্ধের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি যে আলাদা গুরুত্ব বহন করে, তা স্বীকার করেছেন মেসি, ‘জাতীয় সংগীতের সময়ই আমরা বুঝতে পারছিলাম পরিবেশটা অন্যরকম। দর্শকদের কণ্ঠে বিশেষ এক আবেগ ছিল, আর সেটি আমাদেরও ছুঁয়ে যায়। আমরা জানতাম এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু কখনো কখনো আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। আমরা সেই অনুভূতি নিয়েই খেলেছি।’

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মেসি ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছেন। রোববার নিউ জার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নেমে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ডে ভাগ বসাবেন।

এছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগও থাকবে তার সামনে। একই সঙ্গে লক্ষ্য থাকবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করা।

আরআর/আইএন