মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে জিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি, সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেন, পরে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন করতেও চোখে ছিল অশ্রু।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘আমরা যেন ১০ মিটার মাটির নিচে ছিলাম, সেখান থেকেই উঠে এসেছি। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ফিরে আসা সহজ নয়। এই দল কখনো হাল ছাড়ে না, কখনো মাথা নিচু করে না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুটির (ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো) দ্রুত গোলটি আমাদের নতুন বিশ্বাস দিয়েছিল। এরপর ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাই। আজ এই দল যা করেছে, সেটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। মানুষ আজ উদযাপন করছে, সামনে আরও উদযাপনের সুযোগ আসুক সেটাই চাই।’
ম্যাচে শুরুতে অবশ্য নায়ক নয়, খলনায়ক হওয়ার পথে ছিলেন মেসি। প্রথমার্ধের ২১তম মিনিটে তিনি একটি পেনাল্টি মিস করেন। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ পেনাল্টি মিস।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ৭৮তম মিনিটে ক্রিস্তিয়ান ‘কুটি’ রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করেন মেসি। পাঁচ মিনিট পর নিজেই দুর্দান্ত এক শটে সমতা ফেরান। এরপর যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে পূর্ণতা পায় আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।
মেসি বলেন, ‘যেভাবে আমরা জিতেছি, সেটাই সবচেয়ে বেশি আনন্দের। এটি খুব কঠিন একটি ম্যাচ ছিল। তারা ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। এমন ম্যাচে ফিরে এসে জেতা ভীষণ আবেগের। আমরা আবারও কষ্ট করেছি। বিশ্বকাপ এমনই, এখানে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন এবং সমান লড়াইয়ের।’
ম্যাচ শেষে সতীর্থরা মেসিকে ঘিরে বিশেষ উদযাপন করেন। তাকে কাঁধে তুলে আকাশে ছুঁড়ে সম্মান জানান আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা।
এই ম্যাচে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২১-এ নিয়ে গেছেন মেসি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করে গোলদাতার তালিকার শীর্ষেও রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী।
আরআর/আইএন








