বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বাধা টপকাতে পারেনি পর্তুগাল। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের দল। আর এই হারের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ মহাতারকার পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি।

বিবিসিতে ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে রুনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা যেভাবে লিওনেল মেসিকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে খেলে, পর্তুগালের ফুটবলারদের মধ্যে রোনালদোকে ঘিরে সেই অনুভূতি তিনি দেখতে পান না।’

স্পেনের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেললেও কার্যকর হতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। ম্যাচে মাত্র ১৯ বার বল স্পর্শ করেন তিনি এবং নিতে পারেন মাত্র তিনটি শট। অথচ শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা গনসালো রামোস পুরো ম্যাচেই বেঞ্চে বসে ছিলেন।

এবারের বিশ্বকাপেই শেষবারের মতো খেলছেন বলে আগেই নিশ্চিত করেছিলেন রোনালদো। টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন তিন গোল নিয়ে। এর মধ্যে দুটি গোল এসেছে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে, আর একটি ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে।

অন্যদিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুর্দান্তভাবে। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তার গোলসংখ্যা সাত, আর প্রতিটি ম্যাচেই দলের মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি।

এই দুই কিংবদন্তির তুলনা টেনে রুনি বলেন, ‘রোনালদো আর মেসিকে সবসময় একসঙ্গেই আলোচনা করা হয়, কারণ তারা ফুটবল ইতিহাসের সেরা দুই খেলোয়াড়ের একজন; কিন্তু আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের দেখলে মনে হয়, তারা সবাই মেসির জন্য খেলছে। সবাই তাকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘মেসি এই বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলছে। কিন্তু পর্তুগালের খেলোয়াড়দের মধ্যে রোনালদোকে নিয়ে আমি সেই অনুভূতি পাই না।’

পর্তুগালের বিদায়কে আরও হতাশাজনক করে তুলেছে তাদের শক্তিশালী স্কোয়াড। পিএসজির হয়ে গত মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস ও ভিতিনিয়া ছিলেন দলে। এছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা ফুটবলার ব্রুনো ফার্নান্দেজও ছিলেন স্কোয়াডে। এত তারকাসমৃদ্ধ দল নিয়েও শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে না পারায় সমালোচনা আরও বেড়েছে।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান রোনালদো, ‘এভাবে বিশ্বকাপ শেষ করতে পেরে আমি দুঃখিত। গতকালও বলেছি, আমি আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। অন্তত এটা বলতে পারি, আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়ে মাঠ ছাড়ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই। আবেগের মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য করতে চাই না।’

অন্যদিকে পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজও নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়ছেন তিনি।

রোনালদোর বিদায়ের মধ্য দিয়ে পর্তুগাল ফুটবলের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। তবে রুনির মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে- দলীয় ঐক্য এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে পর্তুগাল কি সত্যিই মেসির আর্জেন্টিনার মতো একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারেনি? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো খুঁজতে হবে আগামী দিনের পর্তুগাল ফুটবলকে।

আইএইচএস/আইএন