আর্জেন্টিনা-মিশর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচটি শুধু নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের জন্য নয়, একাধিক বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্তের কারণেও আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে মিশর দুটি পেনাল্টির দাবি তুললেও মাঠের রেফারি এবং ভিএআর দুজনই সেটি নাকচ করেন।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে। মিশরের হামদি ফাথির অভিযোগ, আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার তাকে জার্সি ধরে টেনে ফেলেছিলেন। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন। ভিএআর ঘটনাটি পর্যালোচনা করলেও মাঠের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মতো পর্যাপ্ত কারণ খুঁজে পায়নি।
সাবেক সিলেক্ট গ্রুপ রেফারি ডেভিসের মতে, এটি ছিল খুবই সামান্য সময়ের জন্য এবং ওই টান প্রতিপক্ষের বলে পৌঁছানোর সক্ষমতায় কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি। তাই ঘটনাটি পেনাল্টি দেওয়ার মতো ‘ইমপ্যাক্টফুল ফাউল’ ছিল না।
দ্বিতীয় ঘটনায় অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে ঢোকার সময় মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন, হুলিয়ান আলভারেস তাকে ফাউল করেছেন। কিন্তু এখানেও রেফারি পেনাল্টি দেননি এবং ভিএআর সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
ভিএআর-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফাথির ক্ষেত্রে ম্যাক অ্যালিস্টারের জার্সি ধরা ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত এবং তা বল দখলের সম্ভাবনায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি। তাই এটিকে পেনাল্টির মতো স্পষ্ট ফাউল হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
অন্যদিকে সালাহর ঘটনায় বিশ্লেষকদের মতে, আলভারেজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ফাউল চ্যালেঞ্জ ছিল না। বরং দুজনের বুটের স্বাভাবিক সংস্পর্শে সালাহ পড়ে যান। ফলে এটিও পেনাল্টি দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নয় বলে ভিএআর সিদ্ধান্ত দেয়।
ডেভিসের বিশ্লেষণে, আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট ফাউল হয়নি। বরং সালাহ নিজেই পেনাল্টি আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, দুই খেলোয়াড়ের বুট একে অপরের সঙ্গে লেগেছিল এবং উভয়ের গতির কারণেই সেই সংস্পর্শ তৈরি হয়। ফলে এটিকে ফাউল হিসেবে দেখার সুযোগ ছিল না।
অনেকেই এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিশরের বাতিল হওয়া গোলের আগে দেওয়া ফাউলের তুলনা টেনেছেন। তবে ভিএআর-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দুটি ঘটনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। জিকোর বাতিল হওয়া গোলের আগে ডিফেন্ডারের বুট সরাসরি আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের পায়ে আঘাত করেছিল, যা ফাউলের মানদণ্ড পূরণ করে। অন্যদিকে সালাহর ঘটনায় দুই খেলোয়াড়ের স্বাভাবিক গতির কারণে বুটের সঙ্গে বুটের সংস্পর্শ হয়েছিল, যা ফাউল হিসেবে গণ্য হয়নি।
ভিএআর বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ম্যাচের শেষ মুহূর্তের চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হলেও দুটি ঘটনাতেই মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিল না। তাই ভিএআর-এর হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল বলে তারা মত দিয়েছেন।
আরআর/আইএন








