শেষ বাঁশি বাজার পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি লিওনেল মেসি। জয়ের আনন্দে পানি বেরিয়ে এল চোখ থেকে। একসময় সতীর্থরা এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন, হাওয়ায় ভাসান। আটলান্টার সেই আবেগঘন দৃশ্যের ব্যাখ্যা মিলেছে মেসির কণ্ঠে। বিশ্বকাপ থেকে এত দ্রুত বিদায় নিতে চাননি বলেই ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।
আটলান্টায় মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোয় ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩–২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। নাটকীয় সেই প্রত্যাবর্তনের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে এক ভেনিজুয়েলার সাংবাদিককে মেসি বলেন, ‘দলটি যেভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, চেষ্টা করে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমি গর্বিত। তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই জয়ে এবং শেষ পর্যন্ত যেভাবে সব সম্পন্ন হলো, তাতে আমি খুবই আনন্দিত।’
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে লাউতারো মার্তিনেস মাঠে নামার পর মেসিকে ডান প্রান্তে সরে খেলতে দেখা যায়। সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, ‘মাঝমাঠে খেলাটা কঠিন ছিল কারণ তারা সেখানে ভিড় জমাচ্ছিল। তারা একজন অতিরিক্ত মিডফিল্ডার যোগ করেছিল এবং লাইনগুলোর মাঝে জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। লাউতারো যখন মাঠে নামল, তখন মাঠে ইতোমধ্যে দুজন নম্বর নাইন থাকায় মাঝমাঠে অনেক বেশি খেলোয়াড় হয়ে গিয়েছিল। তাই, আমি সাইডের দিকে একটু জায়গা খোঁজার চেষ্টা করছিলাম। আমার মনে হয় আমরা সেটা করতে পেরেছি, আর এভাবেই কুতির গোলটি এসেছে এবং শেষ পর্যন্ত ফলাফলে আমি আনন্দিত।’
তবে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল শেষ বাঁশির পর তাঁর কান্না। সেটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যখন ২-০ তে পিছিয়ে পড়লাম, তখন পরিস্থিতি খারাপ মনে হচ্ছিল, কঠিন মনে হচ্ছিল। আর শেষে, একটু আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল, পার পেয়ে যাওয়ার স্বস্তি, বিশ্বকাপে টিকে থাকার স্বস্তি, কারণ আমরা এখনই বিদায় নিতে চাইনি। আমাদের মনে হচ্ছিল লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং চেষ্টা করার যোগ্যতা আমাদের এখনও আছে, আর ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে সেটাই হয়েছে।’
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মেসির জন্য সুখকর ছিল না। প্রথমার্ধে তাঁর নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। কিন্তু শেষ দিকে অধিনায়কের পা থেকেই আসে সমতাসূচক গোল। এরপর যোগ করা সময়ে এনসো ফের্নান্দেসের গোলে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন লিখে ফেলে আর্জেন্টিনা।








