অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া বরিশালে অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদার অবশেষে মুখ খুলেছেন। এ ঘটনায় একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় গতকাল শনিবার গভীর রাত থেকে তোলপাড় শুরু হয়।
অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু যুবদলের সঙ্গে জড়িত এমন খবরে বিএনপিতেও হইচই পড়ে যায়। তবে যুবদল সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে দুপুরে লিটু গ্রেপ্তারের পর গণমাধ্যমে কথা বলেছেন মবের শিকার আব্দুল আজিজ। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাঁর অণ্ডকোষ এমনভাবে ধরেছে (লিটু) যে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
এ সময় আব্দুল আজিজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাকে হত্যার চেষ্টা করে এবং বলে—আমাদের চেক দে। আমি ওই অবস্থায় জীবন বাঁচাতে ড্রয়ার থেকে চেক বের করে দিই।’
আব্দুল আজিজ আরও বলেন, ‘মোস্তাফিজুর রহমান লিটু প্রথমে একটা ব্ল্যাংক চেক নিল, আর একটা চেকে লিখিয়ে নিল ৭০ লাখ টাকা। এরপর তাঁরা পকেট থেকে ২ সেট স্ট্যাম্প বের করলে। ৬টি পাতায় আমার স্বাক্ষর ও সিল নিল। পরে লিটু বললে—থানায় চল, সেখানে বসে সালিস হবে। তোর কাছে টাকা পাই।’
আব্দুল আজিজ আরও বলেন, ‘কোতোয়ালি থানায় নিয়ে ওসি তদন্তের সামনে লিটু বলে, আমি তার কাছে টাকা পাই। থানার মাধ্যমে সালিস করতে চাই। তবে ওসি তদন্ত বলেন, অভিযোগ ছাড়া সালিস হবে কী করে? এ সময় লিটু বলে, সে অভিযোগ দেবে।’
হাউজিং ব্যবসায়ী আ. আজিজ আরও বলেন, ‘আমার কক্ষে যে মব হয়েছে এবং স্বাক্ষর নিয়েছে, তার কিছুই থানায় বসে ব্যক্ত করিনি। কারণ, আমার জীবনের নিরাপত্তা ছিল না।’ তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি যদি ওখানে কথা বলতাম, তাহলে হয়তো তারা থানায় বসেও আমার ওপর মব করত। সেই ভয়ে আমি থানায় বসেও কিছু বলিনি।’
আ. আজিজ বলেন, ‘থানা থেকে চলে আসার পর ৩-৪ দিন বিমর্ষ ছিলাম। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা কাউকে বলতেও পারিনি। পরে আমি আইনজীবীর পরামর্শে গত বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করি।’ তিনি দাবি করেন, লিটু তাঁর ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন ঠিকই। কিন্তু তিন বছর আগে তাঁর সঙ্গে লেনদেন ক্লিয়ার হয়ে গেছে।
যদিও গ্রেপ্তারের আগে অভিযুক্ত লিটু জানান, ‘যাঁরা আজিজের কাছে গিয়েছিলেন, তাঁরা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। আজিজ সবার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরিচালকেরা সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।’
এ বিষয়ে রোববার বিকেলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আসিক সাঈদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘হাউজিং ব্যবসায়ী আ. আজিজের ওপর অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমানসহ তাঁর সহযোগীরা মব সন্ত্রাসের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার একটি ঘটনা ভাইরাল হয়। ঘটনাটি নজরে আসার পর মহানগর পুলিশকে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিই।’
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে এ ঘটনায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আমলি আদালতের নির্দেশে আজ রোববার কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলা অনুযায়ী আসামি মোস্তাফিজুর রহমান লিটু এবং তাঁর সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।








