বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মার্কিন রেফারি ইসমাইল এলফাথ। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচে তাকে সহায়তা করবেন তারই স্বদেশি সহকারী রেফারি কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস।

৪৪ বছর বয়সী এলফাথের জন্য এটি হবে এবারের বিশ্বকাপে চতুর্থ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব। এর আগে তিনি নেদারল্যান্ডস-জাপান, উরুগুয়ে-স্পেন এবং ব্রাজিল-নরওয়ের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিন ম্যাচে তিনি মোট ছয়টি হলুদ কার্ড ও একটি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। একমাত্র লাল কার্ডটি পেয়েছিলেন উরুগুয়ের আগুস্তিন কানোব্বিও।

ফিফার এই সিদ্ধান্তের ফলে এলফাথ হলেন এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া দ্বিতীয় কনক্যাকাফ অঞ্চলের রেফারি। এর আগে ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালের জন্য এল সালভাদরের ইভান বার্টনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ বরাবরই উত্তেজনা ও বিতর্কে ঘেরা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হাতের গোল’ কিংবা ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে ঘটনার জেরে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড দুই দলের লড়াইয়ের ইতিহাসে এসব ঘটনা এখনো আলোচিত।

এবারও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান রেফারিং বিতর্ক থেকে মুক্ত ছিল না। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার আইসা মান্দির ওপর ফাউল করেও লিওনেল মেসি লাল কার্ড এড়িয়ে যাওয়ায় আলোচনা তৈরি হয়। শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ভিএআরের সিদ্ধান্তে একটি গোল বাতিল হওয়ায় মিশরের কোচ হোসাম হাসান প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন যে তার দল অবিচারের শিকার হয়েছে।

এছাড়া সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে দেখানো কার্ড বদলে সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যা নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

মরক্কোয় জন্ম নেওয়া ইসমাইল এলফাথ ২০০১ সালে ডাইভারসিটি ভিসা লটারিতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে টেক্সাসে বসবাসকারী এই রেফারি ২০১২ সাল থেকে মেজর লিগ সকার (এমএলএস)-এ ম্যাচ পরিচালনা করছেন। ২০১৬ সালে তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির স্বীকৃতি পান এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথমবার দায়িত্ব পালন করেন।

এলফাথ ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা ম্যাচে চতুর্থ কর্মকর্তার দায়িত্বেও ছিলেন। এছাড়া তিনি ২০২০ ও ২০২২ সালে দুবার এমএলএস রেফারি অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হয়েছেন। উত্তর আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। ২০২৬ কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের ফাইনাল এবং ২০২২ এমএলএস কাপ ফাইনালসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত দুই দলের এই সেমিফাইনালে তাই এলফাথ ও তার রেফারিং দলও থাকবেন বাড়তি নজরদারির মধ্যে। ম্যাচের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে যে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

আরআর/আইএন