অনেকটুকু দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়লেন স্বর্ণা আক্তার। দুই হাতে মুঠোয় নিলেন বলও। দূরে সরে যেতে থাকা ম্যাচটাতে হঠাৎই যেন জেগে উঠল একটা সম্ভাবনা। শেষ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ৫ রান, বাংলাদেশের ৪ উইকেট। দুই দলের ডাগআউটেই তখন দুশ্চিন্তা। ধারাভাষ্যকক্ষে ইয়ান স্মিথ বললেন, ‘গেম অন…।’

মারুফার করা শেষ ওভারের প্রথম বলটাতে চোলে টায়রনের ব্যাট ঠিকঠাক লাগেনি। কিন্তু থার্ডম্যান হয়ে সেটি পেরিয়ে যায় বাউন্ডারি। বাংলাদেশের হার তখনই প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। পরের বলে দৌড়ে এক রান নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪ উইকেটের জয় এনে দেন টায়রন।

এবারের নারী টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ৬ আসরে বাংলাদেশের জয় ছিল মাত্র তিনটি। এবার এক আসরেই দুই জয়। নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানের মেয়েদের হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চারে থেকে পরের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলাও নিশ্চিত হয়েছে নিগার সুলতানাদের।

আজ লর্ডসে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৮ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছিলেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ভালো হয়নি তাদের শুরুটাই। ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হয়ে যান ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস।  

আরেক ওপেনার তাজ নেহার ১২ বল খেলে করেন মাত্র ১। সেখান থেকে সোবহানা মোস্তারি ও শারমিন আক্তারের ৬২ বলে ৫১ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ নারী দল। ৪৮ বলে ৪২ রান করে সোবহানা আর ২৯ বলে ২২ রান করে আউট হন শারমিন।

তবু বাংলাদেশের রান এক শ পেরোনো নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। লড়াই করার পুঁজি আসে অধিনায়ক নিগার সুলতানার ব্যাটে। ইনিংসের শেষ দুই বলে বাউন্ডারি, ২০ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন নিগার।  

দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার লরা উলভার্টকে ইনিংসের প্রথম বলেই বোল্ড করেন মারুফা আক্তার। কিন্তু পাওয়ার প্লেতে আর উইকেট পায়নি বাংলাদেশ। ৬ ওভারে তারা তোলে ৪০ রান।  

তাজমিন ব্রিটস ২৪ বলে ২০ ও আনরি ডার্কসেন ৪৫ বলে ৪৫ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। তবু শেষ দিকে আরও ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ কিছুটা জমিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু আউট হওয়ার আগে নাদিন ডি ক্লার্ক নাহিদার করা ১৮তম ওভারে দুই চারে ১১ রান নিয়ে ম্যাচটা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সহজ করে দিয়ে যান। তবু রিতু মনির বলে স্বর্ণার ক্যাচে কিছুটা আশা জেগেছিল। কিন্তু সেই আশা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি।

রেকর্ড রান করেও ভারতের বিপক্ষে জিততে পারল না বাংলাদেশের মেয়েরা