দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করে নতুন সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পাঁচ ছাত্র সংগঠন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সমান সুযোগ ও দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

সোমবার (১৩ জুলাই) পৃথক বিবৃতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, দেশের সাতটি জেলায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় লাখো পরীক্ষার্থী প্রস্তুতির ঘাটতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং চরম যাতায়াত সংকটে পড়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, বহু শিক্ষার্থীর বইপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়েছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা নিলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়বে এবং মেধার সঠিক মূল্যায়নও সম্ভব হবে না। তারা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও অন্যান্য পরীক্ষা স্থগিত রেখে নতুন সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

একই দিনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিরাজুল ইসলাম যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং অনেক পরীক্ষাকেন্দ্র জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরীক্ষা পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। তারা বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার দাবি জানান। একই সঙ্গে পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা যেন পর্যাপ্ত সময় পায়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগর শাখার উদ্যোগে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে সারাদেশে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, বন্যাকবলিত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় পরীক্ষা স্থগিতের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও সমন্বিত বন্যা মোকাবিলা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের দাবিও তুলে ধরা হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ যৌথ বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধসে জনজীবন বিপর্যস্ত। অনেক পরীক্ষাকেন্দ্রে পানি ঢুকে পড়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বন্যাকবলিত সব অঞ্চলে নতুন সূচি ঘোষণার দাবি জানান। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ, ত্রাণ, উদ্ধার, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত সচল করার আহ্বান জানান।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার এক বিবৃতিতে বলেন, “চলমান বন্যা, অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় লাখ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক পরীক্ষাকেন্দ্র প্লাবিত বা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় পরীক্ষা গ্রহণ মেধা মূল্যায়নে বৈষম্য সৃষ্টি করবে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন সময়সূচি ঘোষণা করাই হবে সবচেয়ে মানবিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।”