চীনের দক্ষিণাঞ্চলে টাইফুন ‘মেসাক’-এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় একের পর এক এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এই বন্যা পরিস্থিতিতে গুয়াংজি অঞ্চলের একটি বাণিজ্যিক খামার থেকে প্রায় ৯০০ সাপ লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে মারাত্মক বিষধর কোবরা বা গোখরা সাপও রয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় খামারটি ডুবে গেলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শত শত সাপ একসঙ্গে লোকালয়ে চলে আসায় ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এরই মধ্যে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন
স্কুলের হোস্টেলে ঢুকে ৪ ছাত্রীকে কামড়াল বিষধর সাপ, একজনের মৃত্যু
লোকালয়ে কোবরা ও বিষধর সাপ
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, কর্দমাক্ত বন্যার পানিতে কোবরা সাপ মাথা উঁচিয়ে সাঁতার কাটছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জাল দিয়ে সেসব সাপ ধরার চেষ্টা করছেন।
বন্যার কারণে বিষধর সাপগুলো মানুষের বাড়িঘর, সিঁড়ি ও ভবনের কোণায় আশ্রয় নিচ্ছে। বন্যার আবর্জনা পরিষ্কার করতে গিয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তি জানান, তিনি নিজের ঘরের মেঝে পরিষ্কার করার সময় একটি কোবরা তাকে কামড় দেয়। হাসপাতাল সূত্রে সাপের কামড়ে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
টাইফুনের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত চীন
টাইফুন মেসাকের প্রভাবে গুয়াংজি অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত সোমবার দুটি বাঁধ ভেঙে বেশ কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই অঞ্চলে অন্তত ছয়জন মারা গেছেন এবং ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
আরও পড়ুন
ফ্ল্যাটে সাপের গোপন খামার, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে বেরিয়ে এল রহস্য
পুরো চীনজুড়ে এই ঝড় ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে। গানসু প্রদেশে একটি বড় ভূমিধসের ঘটনায় ২১ জন মারা গেছেন। এছাড়া হুবেই প্রদেশে শক্তিশালী টর্নেডো ও বজ্রঝড়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধার অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
জরুরি সতর্কতা
হ্যাংঝু শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরো জানিয়েছে, সাপ পালিয়ে যাওয়ার খবরের পর তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। হ্যাংঝু পিপলস হাসপাতালে সাপের কামড়ের রোগীদের জন্য জরুরি চিকিৎসার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি-ভেনম বা সাপের বিষ প্রতিষেধক মজুত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন
গ্রামে ফিরে সাপ পালন, বছরে আয় প্রায় ২ কোটি টাকা
বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসকদের বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন একটি নির্দেশনায় জানিয়েছে, সাপ দেখলে কেউ যেন নিজে তা ধরার চেষ্টা না করেন। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে এবং চলাচলের সময় সবাইকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, সিজিটিএন
কেএএ/








