মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে ইউরোপজুড়ে। চলতি বছরের তীব্র গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহে জার্মানিসহ একাধিক দেশে প্রায় ১০ হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে কেবল জার্মানিতেই মারা গেছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

জার্মানির জনস্বাস্থ্য সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত তাপপ্রবাহজনিত কারণে আনুমানিক ৫ হাজার ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটেছে জুনের শেষ দিকে। সে সময় সাপ্তাহিক গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক ওপরে উঠে গিয়েছিল।

সংস্থাটির সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭০ জনের বয়স ছিল ৭৫ বছর বা তার বেশি। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ছিল, মূলত অত্যন্ত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীদের অনুপাত বেশি হওয়ায়।

জার্মানির এই পরিসংখ্যান ইউরোপজুড়ে ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠা পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বুলেটিনে জানিয়েছে, পশ্চিম ইউরোপে এবার ইতিহাসের উষ্ণতম জুন মাস রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন এবং নেদারল্যান্ডসের জাতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০ থেকে ২৮ জুনের তাপপ্রবাহের সময় ওই চার দেশে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি ছিল। পুরো ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহজনিত কারণে প্রাণহানির ক্ষেত্রে বয়স্ক জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা এবং অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ইউরোপে চরম আবহাওয়ার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস সতর্ক করে বলেছেন—জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে একসময় প্রজন্মে একবার দেখা দেওয়া তাপপ্রবাহ এখন প্রায় প্রতিবছরই ঘটছে। তিনি উল্লেখ করেন, পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ বর্তমানে ইউরোপ, যেখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে। চরম দাবদাহ মোকাবিলায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে ‘হিট হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।