ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার সাম্প্রতিক বিদেশ সফরে ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ নামে নতুন একটি পুরস্কার পেয়েছেন। গত জুন মাসে সেশেলস সফরে মোদীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। তবে মজার বিষয় হলো, মোদীর সফরের আগে এই পুরস্কারের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

এমনকি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া সেই প্রশংসাপত্রে সেশেলস দেশের বানানেও বড় ভুল ছিল। সেখানে ‘রিপাবলিক অব সেশেলস’ বানানে ভুল করে ‘Repubblic of Seycheeles’ (রিপাবলিক বানানে একটি ‘বি’ বেশি) লেখা হয়েছিল। তাড়াহুড়ো করে তৈরি করায় এই ভুল হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তবে মোদীর ঝুলিতে এমন বিশেষ পুরস্কার যোগ হওয়া এবারই প্রথম নয়।

আরও পড়ুন

মোদীর বিজ্ঞাপনেই আড়াই হাজার কোটি রুপি হাওয়া! ভারতে তোলপাড়

মোদীর জন্য তৈরি হয় বিশেষ পুরস্কার

গত ১২ বছরে নরেন্দ্র মোদী তার বিদেশ সফরগুলো থেকে ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া সফরেও তিনি সে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘বিনতাং আদিপূর্ণা’ পেয়েছেন।

modi
সেশেলসের প্রেসিডেন্টের হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী/ ছবি: ফেসবুক@মোদী

এর আগে গত জুনে স্লোভাকিয়ার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ডাবল ক্রস’ পান তিনি।

তবে অনেক দেশই মোদীর সফরের ঠিক আগে শুধু তার জন্যই বিশেষ পুরস্কার চালু করে। যেমন ইসরায়েল সফরের সময় মোদীকে ‘স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল’ দেওয়া হয়, যা এর আগে কেউ পাননি।

আরও পড়ুন

মোদীকে সর্বোচ্চ সম্মাননা দিলো ‘ইসরায়েলের বন্ধু’ স্লোভাকিয়া

২০১৯ সালে বিশ্ব মার্কেটিং সামিট মোদীকে ‘ফিলিপ কোটলার প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ দেয়। মোদীর পর আর কোনো বিশ্বনেতা এই পুরস্কার পাননি।

modi
নরওয়ের গ্রান্ড ক্রস গ্রহণ করছেন মোদী/ ছবি: ফেসবুক@মোদী

সমালোচনা ও ভুল বানানের বিতর্ক

সেশেলসের পুরস্কারে ভুল বানানের কারণে ভারতের বিরোধী দলগুলো মোদীকে নিয়ে ব্যঙ্গ করছে। কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, পুরো বিশ্ব মোদীকে চিনে গেছে। তাকে যে কোনো একটা পুরস্কার দিলেই ছুটে যান। তারা এত তাড়াহুড়ো করছিল যে দেশের নামটাই ভুল লিখে ফেলেছে।

অবশ্য সেশেলসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, ইন্টারনেটে যেটি ছড়িয়েছে সেটি একটি খসড়া বা ড্রাফট ছিল। মূল পুরস্কারটি আসল এবং মোদীর সফরের কয়েক দিন আগে এটি অনুমোদন করা হয়েছিল।

এর আগে মোদী জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ‘গ্লোবাল গোলকিপার’ পুরস্কারও পেয়েছেন।

modiসুইডেনের পুরস্কার নিচ্ছেন মোদী/ ছবি: ফেসবুক@মোদী

মোদীর পুরস্কারে ভারতের লাভ কতটা

নরেন্দ্র মোদী সবসময় বলেন, এসব পুরস্কার তার একার নয়, বরং পুরো ভারতের সম্মান। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, বিশ্বের অন্যতম বড় গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতেই দেশগুলো মোদীকে খুশি করার চেষ্টা করে। এটি বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই প্রমাণ।

আরও পড়ুন

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন / ১২ বছরে ৯০ বিমানবন্দর গড়েছেন মোদী, উন্নয়ন নাকি চোখে ধুলা?

তবে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক নিতাশা কাউল ভিন্ন মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই পুরস্কারগুলো ভারতের কূটনীতির জন্য নয়, বরং মোদীর নিজস্ব ভাবমূর্তি তৈরির হাতিয়ার।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইয়ান হলও মনে করেন, এসব পুরস্কারের পেছনে ভারতের বাস্তব কোনো অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক লাভ খুঁজে পাওয়া কঠিন। এগুলো মূলত মোদীকে বিশ্বনেতা হিসেবে প্রচার করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/