জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণে নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যমান অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করে একটি পরিবেশ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে আধুনিক ও সমন্বিত এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে অনুষ্ঠিত সিনেটের ৪৩তম বার্ষিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের মাস্টারপ্ল্যানটি দীর্ঘদিন আগে প্রণীত হওয়ায় বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে এর অনেক ক্ষেত্রেই অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। এ কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে এবং গত মার্চ মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প যাচাই-বাছাই ও বিবেচনার জন্য আয়োজিত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট কমিটির সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।
নতুন মাস্টারপ্ল্যানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অবকাঠামোগত ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে পরিবেশগত ভারসাম্য, শিক্ষার্থীদের বর্তমান প্রয়োজন এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান উপাচার্য।
সভায় বর্তমান অপরিকল্পিত অবকাঠামোর চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। প্রয়োজনীয় নকশা ও অবকাঠামোগত সমন্বয় ছাড়াই অনেক ভবন নির্মিত হয়েছে। ফলে কোথাও শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট রয়েছে, আবার কোথাও অনেক ভবন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।” এসব অসামঞ্জস্য দূর করে পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন মাস্টারপ্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নতুন এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, গবেষণা অবকাঠামো, প্রশাসনিক ভবন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, সবুজায়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—সবকিছুকেই একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
সিনেট অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও আর্থিক বিষয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সিনেট সদস্য, শিক্ষক, মনোনীত প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








