সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল এলাকায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে পরিবারের সবাইকে নিয়ে রওনা হন বাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সব তছনছ হয়ে গেছে জাহাঙ্গীরের।
দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীরের ছোট মেয়ে জাইফার প্রাণ গেছে। গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী নুরুন নাহার। ছোট বোনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ জাহাঙ্গীরের বড় মেয়ে জান্নাতুল ও ছেলে মোহাম্মদ। হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা বাবার পাশে দাঁড়িয়ে আছে জান্নাতুল ও মোহাম্মদ।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় স্বজনরা ভিড় করে আছেন জাহাঙ্গীরের পাশে। অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা জাহাঙ্গীর কোনো কথা বলতে পারছেন না।
আরও পড়ুন
সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষ: নিহত বেড়ে ৯
তার পাশেই রয়েছেন জাহাঙ্গীরের ১৬ বছর বয়সি মেয়ে জান্নাতুল ও ৭ বছর বয়সি ছেলে মোহাম্মদ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জান্নাতুল বলেন, গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে ইউনিক বাসে রওয়ানা দিই সবাই। আমরা ভাই-বোন বসেছিলাম বাসের বাম পাশে। আর ছোট বোন জাইফাকে নিয়ে ডান পাশে বসে ছিলেন বাবা মা। হঠাৎ দেখলাম একটা মোটরসাইকেল বাসের সামনে এদিক-ওদিক যাচ্ছে। বাসের সামনে বারবার চক্কর দিচ্ছিল। এরপর হঠাৎ করে একটা খুঁটিতে গিয়ে বাস ধাক্কা খেয়েছে এমনটা মনে হয়েছিল। এরপর আর কিছু বলতে পারি না।
জান্নাতুলের প্রতিবেশী সামিয়া বেগম বলেন, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে চণ্ডিপুল এলাকায় গাড়ির টায়ারের ব্যবসা করেন। শুক্রবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৭ জন নিহত হয়। পরে আহতাবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২) এবং ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা (৩)। দুর্ঘটনার পর তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয়।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ওসমানীনগর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. অপু মিয়া জানান, দুই বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো শেরপুর হাইওয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আহমেদ জামিল/এফএ








