মধ্য-উত্তর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পার হলেও থামেনি উদ্ধার অভিযান। চোখের সামনে চেনা শহরগুলো এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ। আর সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকাদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। গত ২৪ জুনের এই ভয়াবহ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ব্যাপক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে পুরো অঞ্চলকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।ভেনেজুয়েলা সরকারের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৫,০০০ মানুষ আহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ১২,০০০-এরও বেশি মানুষ। নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতিসংঘ ও ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ১০,০০০ বডি ব্যাগ (মৃতদেহ রাখার ব্যাগ) সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের মধ্যেও মিলেছে কিছু আশার আলো। জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা জানান, গত রবিবার (২৮ জুন) ধ্বংসস্তূপ থেকে সাতজনকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।বর্তমানে এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে বিশ্বের ২৭টি দেশ। ২০০০-এরও বেশি অভিজ্ঞ উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টিরও বেশি বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানকারী কুকুর মোট ৪০টি দলে বিভক্ত হয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে দেশের মোট সাতটি রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ‘লা গুয়াইরা’ রাজ্য এবং রাজধানী কারাকাসের ‘ডিস্ট্রিটো ক্যাপিটাল’ এলাকায়। ভূমিকম্পের তীব্রতায় এই অঞ্চলে প্রায় ২,৫০০টি ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার একটি বড় অংশই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।জাতিসংঘের প্রতিনিধি রামপোলা সামগ্রিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, "আমরা এই মুহূর্তে অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিপজ্জনক একটি পরিবেশের মধ্যে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।"মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) রেকর্ড করা হয়েছে। যার মধ্যে গত সোমবার (২৯ জুন) ভোরে আঘাত হানা ৫.২ মাত্রার কম্পনটি উদ্ধারকাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এর ওপর দুর্গত এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা ধসে পড়া ভবনগুলোর উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








