বিশ্বকাপ এলেই বদলে যায় চারপাশের আবহ। চায়ের আড্ডা থেকে অফিসের ক্যান্টিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সব জায়গায় শুরু হয় ফুটবল নিয়ে তর্ক, ভবিষ্যদ্বাণী আর খুনসুটি।

বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন আলাদা মাত্রা পায়। কেউ হলুদ জার্সি গায়ে চাপান, কেউ আবার আকাশি-সাদা রঙে নিজের সমর্থনের কথা জানান। কিন্তু দিনের শেষে জার্সির রং আলাদা হলেও বন্ধুত্বের রং ঠিক একই থাকে।

বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেমের একটি মজার দিক হলো, এখানে একই বন্ধুদের দলে একজন ব্রাজিলের সমর্থক হলে অন্যজন আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। ম্যাচের আগে একে অপরকে খোঁচা দেওয়া, পুরোনো পরিসংখ্যান টেনে আনা, মিম শেয়ার করা কিংবা ছোটখাটো বাজি ধরা যেন বিশ্বকাপের আনন্দেরই অংশ।

jago

কিন্তু খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাও শেষ হয়ে যায়। আবার সবাই মিলে চায়ের কাপে আড্ডা জমে, হাসি-ঠাট্টা চলে আগের মতোই।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, সুস্থ প্রতিযোগিতা সম্পর্ককে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে। কারণ, এতে মানুষ একসঙ্গে আবেগ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পায়। জয় হলে উচ্ছ্বাস, হার হলে সান্ত্বনা, দুই ক্ষেত্রেই সম্পর্কের মধ্যে নতুন অভিজ্ঞতা যোগ হয়। তবে শর্ত একটাই, প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন কখনোই ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অসম্মানে পরিণত না হয়।

অনেক পরিবারের মধ্যেও দেখা যায়, বাবা ব্রাজিলের সমর্থক, ছেলে আর্জেন্টিনার। আবার ভাইবোন বা স্বামী-স্ত্রীও ভিন্ন দলের সমর্থক হতে পারেন। ম্যাচের সময় একে অপরকে খুনসুটি করলেও খাবারের টেবিলে কিংবা পারিবারিক মুহূর্তে সেই তর্কের কোনো প্রভাব পড়ে না। বরং এমন ভিন্ন সমর্থন অনেক সময় বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

jago

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ চলাকালে নানা ধরনের পোস্ট, ট্রল বা মিম ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো যদি হাস্যরসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে আনন্দই বাড়ায়। কিন্তু কখনো কখনো অতিরিক্ত আবেগ থেকে কটূক্তি বা অপমানজনক মন্তব্য সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি করতে পারে। তাই ফুটবল নিয়ে আলোচনা হোক যুক্তি ও রসবোধের সঙ্গে, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়।

বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক টিকে থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং গ্রহণযোগ্যতার ওপর। একজন কোন দলকে সমর্থন করেন, সেটি তার ব্যক্তিগত পছন্দ। সেই পছন্দকে সম্মান করতে পারলেই সম্পর্ক আরও সুন্দর হয়। কারণ, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পর্কগুলো কখনোই একটি ফুটবল ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে ছোট নয়। বিশ্বকাপ শেষ হবে, ট্রফি উঠবে কোনো একটি দলের হাতে।

আরও পড়ুন

প্রিয় দল হারলে নিজেকে সামলাবেন যেভাবে

কিন্তু বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর একসঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো থেকে যাবে অনেক দিন। বহু বছর পর হয়তো স্কোরলাইন ভুলে যাবেন, কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে রাত জেগে খেলা দেখা, একসঙ্গে উল্লাস করা কিংবা পরাজয়ের পরও হাসতে হাসতে বাড়ি ফেরা-এই মুহূর্তগুলোই স্মৃতিতে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নেবে।

আরও পড়ুন

মেসির বাড়ি নিয়ে যেসব তথ্য আগে জানতেন না

তাই প্রিয় দলকে সমর্থন করুন প্রাণ খুলে। জার্সি পরুন, পতাকা ওড়ান, খেলা নিয়ে তর্ক করুন, মজা করুন। তবে মনে রাখবেন, ফুটবল আনন্দের খেলা, সম্পর্ক ভাঙার নয়। জার্সির রং আলাদা হতে পারে, কিন্তু বন্ধুত্বের রং যেন সব সময় একই থাকে।

সূত্র: মিডিয়াম, দ্য নিউ ইর্য়ক টাইমস ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই